নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রাজনীতিতে মত পার্থক্য থাকলেও উন্নয়ণের ক্ষেত্রে এখন একই পথে চলতে শুরু করেছেন ভাই-বোন সম্পর্কিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।
আর দলমতের উর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থে রাজনীতিকে প্রাধান্য না দিয়ে উন্নয়ণ কাজ তরান্বিত করার এই লক্ষনটিকে হেভীওয়েট এই তিনজন জনপ্রতিনিধির জন্য মঙ্গলদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, উন্নয়ণের ক্ষেত্রে আগে জনপ্রতিনিধিরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকতেন। মূলত, এমপি কিংবা মেয়র যেই হউক না কেন, তারা বিশেষ করে তাদের অধীনস্থ দলীয় জনপ্রতিনিধিদের (উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড) এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ণ মূলক কাজ বেশী করতেন। কিন্তু এখন সেই ধ্যান ধারনার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস রচনা করছেন নারায়ণগঞ্জের হেভীওয়েট এই তিন জনপ্রতিনিধি সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয় সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান এবং তাদেরই রাজনৈতিক ছোট বোন আইভী। যার ফলে সকল এলাকার জনগণই এখন জনপ্রতিনিধিদের সমপরিমান উন্নয়ণের সুফল ভোগ করতে পারছেন।

জানাগেছে, বিগত ২০১১ সালে নির্দলীয় ভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথমবার এবং ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয় বারের মত মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে নগরীর উন্নয়ণের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও উন্নয়ণের ক্ষেত্রে কাজের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কখনো দলীয়করণ করেন নি আইভী।

যেই কারনে তিনি এখনও বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়ণ মূলক কাজের উদ্বোধনীতে গিয়ে কাউন্সিলরদের উন্নয়ণ করার ক্ষেত্রে কোন বিভাজন সৃষ্টি না করে দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাজ করার অনুরোধ জানান।

আইভী কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন বিভাজন নয়। কে কোন দলের বা কার লোক সেটা আমার কাছে মূখ্য বিষয় নয়। অতীতে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে ভবিষ্যতেও সেভাবে উন্নয়ন হবে। জনগণ কাজ করার জন্যভোট দিয়ে আমাকে মেয়র এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। তাই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাউন্সিলর হিসেবে যিনিই নির্বাচিত হোক না কেন উন্নয়নের ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হবে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন তাকে সাথে নিয়েই কাজ করে যাবো। আমি কোনো বিভাজনে বিশ্বাসী নই। কাউন্সিলরদেরও অনুরোধ করবো তারা যেন, কোনো বিভাজন না করে দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাজ করেন।’

ঠিক একই পথে চলছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান। বিগত ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল তারই বড় ভাই উক্ত আসনের সংসদ সদস্য বঅর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় ২৬ জুন উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সেলিম ওসমান সবসময় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যেই কারনে তিনি প্রায় সভা সমাবেশেই জোড়ালো কন্ঠে বলে থাকেন, ‘আমি রাজনীতি করি না। কে কোন দল করেন সেটা আমি বুঝতে চাই না। আমি শুধু চাই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ। তাই উন্নয়ণের স্বার্থে আমি যে কারো সাথেই বসতে পারি।’

যার ফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অধীনে দু’টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপির জনপ্রতিনিধি এবং ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়রসহ বিএনপি ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর তথা কোন জনপ্রতিনিধিকেই উন্নয়ণ কাজে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সেলিম ওসমান কখনো দলীয় বিবেচনা করেন নি। যেই কারনে তিনি জাতীয় পার্টির সাংসদ হলেও আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি দলীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সম্মান, শ্রদ্ধা, বাহ্বা পাচ্ছেন।

তবে বাদ যাননি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের হেভীওয়েট সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানও। বিগত ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বারের মত বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় এমপি নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপার্সনসহ গোটা দলকে নিয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষাগার মূলক বক্তব্য দিয়ে মাঠ গরম করলেও উন্নয়ণের ক্ষেত্রে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় থাকা বিএনপির জনপ্রতিনিধিদেরই সবচেয়ে বেশী মূল্যায়ন করেছেন। উন্নয়ণ কাজের বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে কখনো দলীয় বিবেচনা করেন নি।

যার ফলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও খোদ আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে শামীম ওসমানের প্রশংসা করতে কার্পন্য বোধ করেন নি।

ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়ায় কাজ শুরুর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাতে গত ১৯ অক্টোবর কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া মাঠে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসমাবেশে যা দেখে অভিভূত হয়ে যান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামীলীগ সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক।

বিএনপির এই দুইজন জনপ্রতিনিধির মুখে সরকার তথা শামীম ওসমানের জয়গাণ শুনে রীতিমত তাদের বাহ্বা দেন প্রতিমন্ত্রী। আর উন্নয়ণের ক্ষেত্রে শামীম ওসমানও যে দলমতের উর্ধ্বে কাজ করছেন তা স্বীকারও করেন প্রতিমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

আর সত্যিই যদি উন্নয়ণের ক্ষেত্রে সাংসদ সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ও সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে থাকেন তাহলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবেনা বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সাধারন জনগণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here