নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী বছরের যেকোন সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
তাই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পোক্ত করতে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের (রূপগঞ্জ) সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের (আড়াইহাজার) সাংসদ আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবুসহ সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে জোর লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিন্তু ব্যাতিক্রম দেখাগেছে নারায়ণগঞ্জের অন্য তিনজন এমপির ক্ষেত্রে। যারা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজ সংসদীয় এলাকার উন্নয়ণকে বেশী প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছেন। যে যেভাবে পারছেন, চেষ্টা করছেন নির্বাচনের আগ মূহূর্তে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ উন্নয়ণ মূলক কাজ গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে। নিজ ক্ষমতাবলে বিভিন্ন মন্ত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে আনছেন কাজ।

আর আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়ের পরিবর্তে নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ণকে প্রাধান্য দেয়ায় মগ্ন থাকা সেই ৩ জন এমপির মধ্যে একজন হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান, আর অপর দু’জন হচ্ছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের (সদর-বন্দর) সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের (সোনারগাঁ) সাংসদ আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা।

অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেখাগেছে, আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দলীয় এমপিসহ নেতাকর্মীদের আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্ততি নেয়ার নির্দেশনা দেয়ার পর আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপর হয়ে উঠেন স্ব স্ব দলীয় এমপিরা।

কিন্তু নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির পরবির্তে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আরো উন্নয়ণ কাজ কতটুকু সম্পন্ন করা যায়, সেটিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন সাংসদ সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা।

যেই কারনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের (সদর-বন্দর) সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমান নিজের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আগামীতে কারা প্রার্থী হতে চাচ্ছেন, সেদিকে খেয়াল না রেখে নারায়ণগঞ্জকে আরো কিভাবে উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারেই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাণপন প্রচেষ্টা।

আর আগামী নির্বাচনে উক্ত আসনে পুনরায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে স্বয়ং হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সেলিম ওসমানের নাম ঘোষণা করে গেলেও সেলিম ওসমানের ইচ্ছে, আগে উন্নয়ণ করতে হবে, পরে নির্বাচন। যদি জনগণ মনে করেন যে আগামীতে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন তাহলে তিনি প্রার্থী হবেন। আপাদত নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ ব্যতীত অন্যকিছু চিন্তা করছেন না তিনি বলে জানান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ শামীম ওসমানও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজ এলাকার উন্নয়ণ নিয়ে বেশী ভাবছেন। যেই কারনে, তিনি নিজেও বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলছেন, আমার আর এমপি হওয়ার ইচ্ছে নেই। তবে আমি এমপি হতে না পারলেও আগামীতে শেখ হাসিনাকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে হবে। নয়তো এই দেশের মানুষ আর শান্তিতে ঘুমাতে পারবেনা। আমি এখন মানব সেবার মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চাই। তাই জনগণের উন্নয়ণে আগামী নির্বাচনের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত যত উন্নয়ণ প্রয়োজন আমি করবো।

আর যা কিনা ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর কাছে দৃশ্যমানও হচ্ছে। ডিএনডি বাসীর বহু বছরের দূর্ভোগ নিরসনে মন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দ্বারস্থ হয়ে শামীম ওসমান জলাবদ্ধতা নিরসনে শেষতক প্রকল্প পাশ করিয়েছেন। শীঘ্রই যার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডকে ৬ লেনে উন্নীতকরণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ণের লক্ষ্যে আরো প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ আনার ঘোষণা দেন শামীম ওসমান। যিনি বড় ভাই সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের মত নিজেও একটি আধুনিক উন্নতমানের নারায়ণগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে, আওয়ামীলীগের বদৌলতে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলেও আধুনিক মানের সোনারগাঁ গড়ার লক্ষ্যে বিন্দুমাত্র কার্পন্য করেন নি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলীয় জাতীয় পার্টির এমপি আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা। স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট নির্মানের মাধ্যমে নিজ গুণে স্থানীয় জনগণের মনিকোঠায় নিজের অবস্থানও পোক্ত করে নিতে সক্ষম হয়েছেন খোকা।

যেই কারনে আগামী নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সাবেক এমপিসহ সম্ভাব্য অনধিক প্রার্থী এখন নিজেদের নির্বাচনী মাঠ ঘুছানোর চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পার করলেও সোনারগাঁয়ের উন্নয়ণে আর কি কি কাজ করা যায়, সেটি ভেবে সময় পার করছেন এমপি খোকা। কারন, তিনি বিশ^াস করেন, আগামী নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ইতিমধ্যেই তার প্রার্থীতা চূড়ান্ত করে দিলেও পুনরায় তাকে কেবল এমপি নির্বাচিত করতে পারেন সাধারন ভোটাররা। তাই জণগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ণ মূলক কর্মকান্ড যদি যথাসময়ে শেষ করা যায় তাহলে জনগণই তাকে উন্নয়ণের ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে পুনরায় এমপি নির্বাচিত করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here