নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বন্দর থানার সিটি করপোরেশন এবং উপজেলার আওতাধীন সর্বত্র এলাকা গুলোতে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি উন্নয়নকে গতিশীল রাখতে নতুন পদ্ধতিতে কর্মকান্ড পরিচালনা করার দিক নিদের্শনা প্রদান করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বন্দর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটি এবং উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি মাসিক সভায় প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

সেলিম ওসমান বলেন, বন্দর থানা এলাকাটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি অংশ হচ্ছে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৯টি ওয়ার্ড এবং অপর অংশটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা গুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজ করতে পারলেও সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনি কাজ করতে পারেন না। এখানে সরকারী নিয়মনীতির কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে গোটা বন্দর এলাকার উন্নয়ন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং উপজেলার চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলার কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা সম্মিলিত ভাবে কাজ করলে বন্দরের উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো দ্রুত সম্পন্ন করা অবশ্যই সম্ভব।

সভার সভাপতি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা সহ উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শুধু লোক দেখানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা করার কোন দরকার নেই। সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত গুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে আপনার সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারগন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কমিটি গঠন করে আলোচনার বসার করেন। যেই এলাকায় যাদের সাথে বসতে হবে তাদের নিয়েই বসে আলোচনা করে সমস্যা খুঁজে বের করে একে অপরকে সহযোগীতার মাধ্যমে সমস্যা গুলো সমাধান করবেন। আর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তাকে অবশ্যই প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে উক্ত এলাকায় আলোচনায় বসতে হবে।

আর চেয়ারম্যানদেরকেও প্রতিটি এলাকার মেম্বারদের নিয়ে আলোচনায় বসতে। সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড এবং উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এলাকা নিয়ে মোট ১৪টি এলাকা। প্রতি সপ্তাহের শনিবার গুলোতে যদি ২টি করে এলাকার মানুষের সাথে আলোচনায় বসা যায় তাহলে দেখা যাবে আগামী ৭ সপ্তাহের মধ্যে ঘোটা বন্দর এলাকার বাস্তব চিত্র এবং সঠিক তথ্য আপনাদের কাছে চলে আসবে তখন সকলের কাজ করতে আরো বেশি সুবিধা হবে। মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা পরিচালনার কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কমিটিতে আমি সহ অনেকেই উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। সভায় কোন বিষয়ের উপর উপদেষ্টাদের কোন প্রকার পরামর্শের প্রয়োজন হলে উপদেষ্টাদের উপস্থিত থাকা জরুরি। সভার অন্তত এক সপ্তাহ পূর্বে যদি সকলের কাছে সভার এজেন্ডা এবং পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি প্রদান করা হয় তাহলে সভায় কার্যক্রম পরিচালনা আরো সহজ হবে।

এছাড়াও বিভিন্ন সভা গুলো ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করে তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় অনেক জনপ্রতিনিধিদের সহ সরকারী কর্মকর্তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ ফেলে রেখে সভায় অংশ গ্রহণ করতে হয়। আবার সভায় অংশ না নিলেও পরবর্তীতে অনুপস্থিতির ব্যাপারে সমালোচনা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যদি সভা গুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করা তাহলে দেখা যাবে কারো অন্য কোন গুরুত্বপূর্ন কাজ থাকলেও চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ সরকারী কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে বসেই সভায় অংশ নিতে পারছেন। কোন পরামর্শ বা প্রস্তাবনা থাকলে সেটা উপস্থাপন করা পারবেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উনার কার্যালয়ে বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গার উন্নয়ন কাজ গুলোর উদ্বোধন করছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারী বরাদ্দ রয়েছে। যদি ওই বরাদ্দ স্বল্প পরিমান হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনে আমরা সহযোগীতা করবো। আগামী মাসিক সভা থেকেই এ পদ্ধতি চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও যদি বন্দরের প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিরা যদি নিজ নিজ এলাকায় সিসি টিভি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করেন তাহলে দেখা যাবে থানার ওসি তার থানায় বসেই সমস্ত এলাকাটি পর্যবেক্ষনে রাখতে পারছেন। এতে করে সকলের কাজ অনেকটাই কমে যাবে। এর মাধ্যমে পুরো বন্দর থানা এলাকাকে ডিজিটালের আওতায় আনা সম্ভব হবে। যেমনটা নারায়ণগঞ্জ শহরে সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড এলাকা সম্পূর্ন ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনে আপনারা উক্ত এলাকার কাউন্সিলরের সহযোগীতা নিতে পারেন।

বন্দরে বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক ও অটো রিকশা থেকে চাঁদা তোলার বিষয়টি উল্লেখ করে সেলিম ওসমান বলেন, আসার পথে দেখলাম রাস্তায় প্রকাশ্যে টোকেন দিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে রিকশা থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাস্তায় কোন প্রকার চাঁদাবাজি করতে দেওয়া যাবে না। হয়তো ওই সকল চাঁদাবাজেরা হয়তো আমার দলের লোক বা আওয়ামীলীগের দলীয় পরিচয় দিয়ে থাকতে পারে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই আমার কোন লোক নাই। যারা রাস্তায় চাঁদাবাজি করে তারা কারো লোক বা কোন দলের কোন নয়। অপরাধীদের শুধু অপরাধীর দৃষ্টিতেই দেখে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে যদি কোন দলের রাজনৈতিক নেতা তাদের হয়ে সুপারিশ করেন তাহলে তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার আর্দশিক যোগ্যতা থাকবে না বলে আমি মনে করি। তাই যেভাবেই হোক রাস্তায় চাঁদাবাজি কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে।

বন্দর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিন্টু বেপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা শাহীনা শবনম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ সহ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here