নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন হায়দার বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত শান্তি প্রিয় এবং অসম্প্রদায়িক। এখানে সকল ধর্মের মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আর তাই নারায়ণগঞ্জবাসীকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দূর্গোৎসব উপহার দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ টিম নারায়ণগঞ্জ বদ্ধ পরিকর। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি পূজা মন্ডপে নিñিদ্র নিরাপত্তার মাধ্যমে পূজা উদযাপণে টিম নারায়ণগঞ্জের আন্তরিকার কোন ঘাটতি থাকবে না। আশা করছি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সবচেয়ে উপভোগ্য দূর্গা পূজা উপহার দিতে সক্ষম হবো।

আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউসে এ মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন হায়দার বলেন, রূপগঞ্জের গৌরাঙ্গ মহা প্রভু মন্দিরে দূর্গা পূজা আয়োজন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধানে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া ও পুলিশ সুপার মইনুল হক ইসকন ও পূজা উদযাপণ পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন এবং সমাধানের চেষ্টা করবেন। আশা করছি সকল জটিলতার অবসান ঘটিয়ে এ বছর এখানে দূর্গা পূজার আয়োজন সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, আসন্ন দূর্গা পূজার বিজয়া দশমীর দিন রাত আটটা থেকে বিসর্জণ শুরু হবে। পূজা মন্ডপে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করা যাবে তবে রাত দশটার পর ভলিউম কমিয়ে দিতে হবে এবং শ্রুতিমধুর গান বাজাতে হবে। তাছাড়া আজানের সময় অবশ্যই সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখতে হবে। পূজা মন্ডপগুলিতে সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে এবং ভলান্টিয়ারদের আইডি কার্ড বা নির্দিষ্ট টি-শার্টের ব্যবস্থা করতে হবে। সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ পূজা মন্ডপগুলোর সমস্যা উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের দাবী জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিপন বলেন, রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার দিন প্রচন্ড রকমের লোকের সমাগম হয়। উক্ত দিনে চাষাড়া হইতে রামকৃষ্ণ মিশনে যাতে ট্রাফিক ব্যাস্থা উন্ন করা হয়। সেই আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রাখার দাবি করছি।

আমলাপাড়া পূজা মন্ডপ, টানবাজার নতুন পূজা মন্ডপ বঙ্গবিহারী পূজা মন্ডপে দর্শনার্থীদের প্রচন্ড চাপ থাকে। আমলাপাড়া সহ এস.এম. মালেহ রোড, টানবাজার এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাখার দাবি জানাচ্ছি।

দেওভোগ শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ণ আখড়া, নতুন পালপাড়ায় ২টি পূজা মন্ডপ, ডিএন রোডে ২টি পূজা মন্ডপ, নন্দীপাড়া মন্ডপ এই এলাকাগুলি ঘন জনবসতিপূর্ণ এবং রাস্তাগুলি সরু সর্বোপরি প্রচন্ডভাবে লোকজনের সমাগম হয়। এই এলাকাগুলিতে পূজার সময় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পায়। সেই জন্য দিবা-রাত্রি টহল পুলিশের ব্যবস্থার রাখার অনুরোধ করছি। অতি সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই এই এলাকা গুলিতে পানি জমে থাকে। এ ব্যাপারে সিটে কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করছি।

শীতলক্ষ্যা সত্য নারায়ণ মন্দিরের সম্মূখের রাস্তাটি ভাঙ্গা। পূজার পূর্বে রাস্তাটির সংস্কার করার জন্য আপনার মাধ্যমে সিটে কর্পোরেশনকে অনুরোধ করছি এবং সেই সাথে পূজার ৪দিন ঐ রাস্তা দিয়ে যাতে কোন সিএনজি, অটোরিক্সা রাতে না চলাচল করে সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতাল মোড় থেকে নগর খানপুর সিদ্ধি গোপাল পূজা মন্ডপ পর্যন্ত যাতে লাইট পোষ্টে পূজার সময় যথেষ্ট আলো থাকে এবং সে ব্যাপারে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নয়ামাটি নতুন সার্বজনীন পূজা মন্ডপের সম্মূখে পূজার সময় যাতে কোন হকার না বসে সে আলোকে ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবি করছি।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিজয়া দশমী শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ৫নং জেটিতে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জেটিটি বর্তমানে ভাঙ্গা থাকার কারনে বিসর্জন করিতে ব্যাঘাত ঘটে। উল্লে¬খিত জেটিটি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অতি সত্বর মেরামতের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমাদের সদর থেকে ফতুল্ল¬া পঞ্চবটি দর্শনার্থীরা যাওয়ার সময় গোরস্থান হইতে পঞ্চবটি মোড় পর্যন্ত সরকারী ভাবে প্রতিটি লাইট পোষ্টে বিদ্যুৎবাতি দেওয়া অতীব জরুরী। কারন রাস্তাটি অন্ধকার থাকে এবং লোকজন ছিনতাইকারীদের কবলে পরে।

ফতুল্ল¬া লঞ্চঘাটে একটি বিজয়া বিসর্জন মঞ্চ হয়। সেটিকে স্থায়ীভাবে রূপ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকরী করা হয় নাই। এবার আপনার মাধ্যমে যাতে স্থায়ীভাবে ফতল্ল¬া অঞ্চলে একটি বিজয়া বিসর্জন মঞ্চ করা হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। যে স্থানে আমাদের বিসর্জনের প্রক্রিয়াটি চলে সেখানে যেন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিপূর্ন আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রতি বছরের মত যেন লোক লঞ্চ বা ট্রলার উক্ত স্থানে না থাকে সে ব্যাপারে নৌ পুলিশকে আপনার মাধ্যমে যথাযথ দিক নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করছি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এবার ৭টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর জেলেপাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটি যে ঘাটে বিজয়া দশমী করে সে ঘাটটি দশমীর জন্য রির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে ঘাটের রাস্তাটি অবৈধ ভাবে দেওয়াল নির্মাণ করায় রাস্তাটি সরু হয়ে যাওয়ায় দশমী করতে ভীষনভাবে অসুবিধা হচ্ছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার অনরোধ করছি। লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস অভ্যন্তরে এবং নির্ধারিত পূজার স্থানে দীর্ঘ ৭৩ বৎসর যাবৎ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উল্লে¬খিত স্থানে যাতে বাধাহীন ভাবে সুন্দর এবং সুষ্ঠভাবে পূজা উদযাপিত হতে পারে এবং পূজার পাশে রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় সিমেন্ট, বালু, ইট যত্রতত্র রাখা আছে। এগুলো পূজার পূর্বে অপসারন করে পূজার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত কল্পে মিল কর্তৃপক্ষকে আপনার দপ্তর থেকে একটি প্রশাসনিক চিঠি দেওয়ার অনুরোধ করছি।

বন্দর উপজেলায় এবার ২৫টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেকটি মন্দির ইতোমধ্যে পূজার প্রস্তুুতি সম্পূর্ণ করা হইয়াছে। আপাতত কোথাও কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হয় নাই। সর্বশেষ শতিলক্ষা নদীতে পূজার সময়টিতে যাতে বালুর ট্রলার চলাচল না করে সে আলোকে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করছি। এই বালুর টট্রলার বলগেট নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে দূর্ঘটনায় মানুষের অকাল মৃত্যুর কারন হয়ে দাড়িয়েছে। যেহেতু আমাদের পূজার সময় লোকজনের নদী পাড়াপার বেশী হয়। উলে¬খিত কারন বিবেচনায় নিয়ে আপনার মাধ্যমে নৌ পুলিকে যথাযথ নির্দেশনা দিতে অনুরোধ করছি।

সোনরগাঁও উপজেলার পানাম পূজা মন্ডপের জায়গা সরকারের একোয়ার করার পরিকল্পনা আছে। আমরা পূজা পরিষদ মনে করি সরকার আমাদের মন্দিরের জায়গা এবং পূজা মন্ডপের জায়গা দিয়ে একোয়ার করবে। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে আমরা সরকারের নিকট দাবী রাখলাম। যাতে করে আমাদের পূজা করতে কোন প্রকার অসুবিদা না হয়। মোগড়াপাড়া শ্রী শ্রী গৌর নিতাই পূজা মন্ডপ মামলার কারনে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মনে করি। রূপগঞ্জ উপজেলায় আপাতত কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হয় নাই। গত বৎসরের ন্যায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা সচল রাখার আবেদন করছি।

আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া-কালী মন্দিরের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।

সরকারী অনুদান হিসেবে গত বৎসর যে চাউল দেওয়া হয়েছে এ বৎসর যেন তার পরিমান বৃদ্ধি করা হয়। এই সরকারের আমলে বিদ্যুদের অভাবনীয় উন্নতি সাধন হয়েছে। আমরা আশা করি এবার বিদ্যুতের লোডশেডিং হবে না। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাবলী প্রত্যাশা করি।

পরিশেষে ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই প্রত্যয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব অসাম্প্রাদায়িক চেতনায় উদযাপিত হয় সেই প্রত্যাশা রেখে আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে সবাইকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার পক্ষ থেকে জানাই আগাম শারদীয় শুভেচ্ছা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপণ পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমরা দীর্ঘদিন যাবত সকল ধর্মের মানুষ একসাথে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছি। কখনো কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে ইদানিং কিছু দুষ্ট চক্রের উত্থানে আমরা সাময়ীক বিচলিত। এ জন্য প্রশাসনের একটু বাড়তি নজরদারী কামনা করছি। পাশাপাশি আমরা সবাই যদি চোখ কান খোলা রেখে একটু সচেতন থাকি, তবে দুষ্টচক্রের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন , জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল হামিদ, র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম, আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার, রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিক আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়েরর ট্রাষ্টি পরিতোষ সাহা, মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ পূণ্য স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শরোদ কুমার সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমলেশ সাহা , মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, কোষাধ্যক্ষ সুশীল দাস, প্রচার সম্পাদক তপন ঘোপ সাধু, নারায়ণগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপিনাথ দাশ, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ বাবু, ফতুল্লা থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রঞ্জিত মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মন্ডল, , সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিশির ঘোষ অমর , বন্দর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন দাস, সোনারগাঁ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লোকনাথ দত্ত, রূপগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গনেশ চন্দ্র পাল, আড়াইহাজার পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরাধন মন্ডল প্রমূখ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here