নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল বলেন, ‘২০০৪ সালে শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার চক্রান্ত হাওয়া ভবনে বসেই হয়েছিল। বিএনপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক জিয়ার নির্দেশেই ওইদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। আমরা সেই হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি।’

শনিবার (২৬ আগষ্ট) বিকেলে ২নং রেলগেটস্থ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছা সেবকলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী নির্বাচনে ৫টি আসনে নৌকার বিজয় হবে দাবী করে তিনি আরো বলেন, ‘উপড়ে নৌকা আর ভেতরে ধানের শীষ চলবে না, এমন হাইব্রীড নেতা অনেক আছে দলের মধ্যে, সামনে নির্বাচন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলার ৫টি আসনেই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, হয় তাদের শাস্তি দিব নয় আমি নিজেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করবো।’

বাদল আরো বলেন, ‘কিছু পত্রিকা আছে যেগুলো বিএনপি-জামায়েতের ধারায় চলছে। তারা একটি ইস্যুই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রতিদিন সংবাদ প্রকাশ করে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা করছে। এসকল পত্রিকা থেকে নেতা কর্মীদের দূরে থাকতে হবে। যারা শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শামীম ওসমান হচ্ছেন দীপ্তমান সূর্য। তিনি সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন ইনশা আল্লাহ।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম বলেন, ‘শামীম ওসমানের কর্মীরা দুর্বল নয়। তারা যেমন ধৈর্য্য ধরতে জানে, তেমনি ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে এর দাঁতভাঙ্গা জবাবও দিতে জানে। সুতরাং নোংরা রাজনীতি ছেড়ে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতিতে আসুন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলেন, ‘শামীম ওসমানের হাতে তৈরি কিছু বিপথগামী নেতাকর্মীরা আজ নেতার বিরুদ্ধে কথা বলছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে শামীম ওসমানের রাজনীতির শিকরটা কতটা শক্ত। তবে তাদের এই ধারণা ভাঙবে। একদিন কোন কূল কিনারা না পেয়ে তারা শামীম ওসমানের পদতলে এসে পড়বে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান লিটন এড. মালা ও সন্ধ্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সন্ধ্যা তো এমনিতেই অন্ধকার। আর মালা গলায় পড়লে জ্বালা কম নয়। দয়া করে এই নোংরা খেলা বন্ধ করুন। অনেক নাটক হয়েছে। যদি আরেকবার আমাদের নেতাকে নিয়ে কোন কটুক্তি করা হয়, তাহলে সেই কটাক্ষকারীর জিহ্বা টেনে ছিড়ে ফেলবো।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হাসান নিপু বলেন, ‘খন্দকার মোস্তাকের বংশধরেরা এখনো শেখ হাসিনাকে মারার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শুধু তাই নয়, তাদের অনুসারীরা নারায়ণগঞ্জের প্রাণপুরুষ শামীম ওসমানকে নিয়ে নোংরা রাজনীতিতে মত্ত। আমি সেই ষড়যন্ত্রকারীদের হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই, এখনো সময় আছে এই নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন। নয়তো শোক কে শক্তিতে রূপান্তরিত করে পার্টি অফিসে বসে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে কটাক্ষকারীদের নারায়ণগঞ্জের মাটি থেকে উৎক্ষেত করা হবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে উদ্দেশ্য করে এহসানুল হক নিপু বলেন, ‘বিগত দিন গুলোতে আপনাদের অনেক ইজ্জ্বত দিয়েছি। দয়া করে শামীম ওসমানকে নিয়ে আপনাদের নোংরা খেলা বন্ধ করুন। আমরা যেমন কাউকে ইজ্জ¦ত দিতে জানি তেমনি ইজ্জ্বত নিতেও জানি। শামীম ওসমান আপনাদের যে সম্মান দিয়েছেন তা অক্ষুন্ন রাখুন। পদ পেয়েছেন বলে যা খুশি তা বলবেন এসব বরদাস্ত করা হবে না। অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে রক্ষা নাই। শামীম ওসমান যেমন পদ দিতে জানে, তেমনি পদ ছিনিয়ে নিতেও জানে। সুতরাং সাবধান হোন।’

সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে যেমন জননেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নাই, তেমনি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের বিকল্প নাই। অনেক নেতা আছেন, যারা শামীম ওসমানের কারণে আজ বড় বড় পদে উন্নীত। অথচ তারাই আজ অতীত ভুলে তার (শামীম ওসমান) বিরুদ্ধে কথা বলছে। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এখনো সময় আছে এই নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন। নতুবা নারায়ণগঞ্জের মানুষ আপনাদের টুটি চেপে ধরবে।’

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিদ্দিক আহমেদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল হক রাজু, প্রচার সম্পাদক আল আমিন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here