নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: এক মঞ্চে বসলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের মধ্যকার সৃষ্ট দূরত্ব এখনো বিরাজমানই আছে বলে মন্তব্য করেছেন সোনারগাঁয়ের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদরা।
রাজনীতির স্বার্থে এক মঞ্চে বসে একই সুরে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দেয়ার দাবীর পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের আসনে সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতকে ‘নৌকার’ কান্ডারী হিসেবে সমর্থণের ঘোষণা দিলেও আব্দুল হাইয়ের সাথে শুধু মাত্র মান রক্ষার্থে সৌজন্য মূলক কথা বলেন ভিপি বাদল।

কিন্তু প্রবীন এই নেতা তথা দলের সভাপতির সাথে কথা বলার সময়ও বাদলের মুখে ছিল না কোন মিষ্ট হাসির ছাপ। যা দেখে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অনেক নেতাকর্মীই হতবাক হয়ে যান। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, আব্দুল হাই আর ভিপি বাদলের মধ্যকার দূরত্ব সৃষ্টির সংবাদ কয়েকদিন যাবত গণমাধ্যমে যে প্রকাশিত হচ্ছিল, তাই প্রতীয়মান হয়েছে।

কেননা, ইদানীংকালে জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল একক ভাবে একের পর এক দলীয় কর্মসূচী পালন করায়, আব্দুল হাইয়ের সাথে তার যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা ক্রমশই প্রকাশ্য হতে থাকে।

কিন্তু কি কারনে হঠাৎ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে কখনো কেউ বলেনি।

তাই গত ৫ নভেম্বর সোনারগাঁ উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে জেল হত্যা দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষন জাতিসংঘ (ইউনেস্কো) আন্তর্জাতিক রেজিষ্টার স্মারকে ‘মেমোরী অব দ্যা ওয়াল্ড’ ইন্টার ন্যাশনাল রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জনসভায় যখন অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল যোগ দিয়ে এক মঞ্চে বসেছিলেন, তখন দলীয় নেতাকর্মীরা ভেবেছিলেন, হয়তো কয়েক মাস পূর্বে উভয়ের সম্পর্কে সৃষ্ট হওয়া দূরত্বের বুঝি অবসান সোনারগাঁয়ের মাটিতেই শেষ হচ্ছে।

কিন্তু না, একমঞ্চে উপবিষ্ট থাকলেও শুধুমাত্র আব্দুল হাইয়ের সাথে মান রক্ষার্থে কুশলাদী বিনিময় করেন বাদল। যার ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও তাদের সম্পর্কের বৈরীতা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা।

আর দীর্ঘদিন পর একত্রে বসলেও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল তার সাথে কোন কথা বলেছেন কিনা, জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘ভিপি বাদল তার সাথে সৌজন্য মূলক কুশলাদী বিনিময় করেছিলেন। বেশী কিছু কথা হয়নি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here