নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দাবী করা হয়ে থাকে বৃহৎ রাজনৈতিক দল নাকি বিএনপি। আর সেই বৃহৎ দলে ঘরকুনো হয়ে পড়া দলীয় নেতাকর্মীদের জাগ্রত করতে গিয়ে এখন একজন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বনে গেছেন মহানগর বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী!
অথচ, দলকে সুসংগঠিত করতে নতুন নেতৃত্ব পাওয়ার পর আংশিক কমিটির মাত্র ২৬ জন সদস্যকেই অদ্যবধি কোন কর্মসূচীতে একত্রিত করতে পারেনি মহানগর বিএনপির সভাপতি সেক্রেটারী। উপরন্তু রাজপথের পরিবর্তে চার দেয়ালের গন্ডির মধ্যে কর্মসূচী পালন করতে করতে গৃহবন্দি হয়ে পড়ে মহানগর বিএনপি। সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালকে নিয়ে তৃণমূলে শুরু হয় সমালোচনা।

তন্মধ্যে, ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূলকে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে যখন সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন মহানগর বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়নে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুরু করেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, তখনই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল।

মূলত, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী হওয়ায় এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেন উক্ত আসনেরই সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম। আর একাকী এক সময়ে আন্দোলন করে রাজপথ কাঁপানো এটিএম কামাল এখন এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে তার অবস্থানে চলে আসতে দেখে কামালও হঠাৎ সাখাওয়াত বিরোধী হয়ে যান।

বিনা অনুমতিতে মহানগর বিএনপির ব্যানারে দলীয় কর্মসূচী পালন করায় এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ১৫ দিনের মধ্যে সাংগঠনিক ভাবে কোন ব্যবস্থা না নিলে রীতিমত পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়ে ফেলেন সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল।

যার প্রেক্ষিতে সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহিৃত করে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জেলা বিএনপির ৩ জন ও মহানগর বিএনপির ৫ জন নেতা স্বাক্ষর করে একটি লিখিত অভিযোগ পত্র পাঠান।

আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে ব্যানারে মহানগর বিএনপির নাম ব্যবহার করতো। কিন্তু এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তো আর সেই নেতৃবৃন্দদের ব্যানারে মহানগর বিএনপির নাম দিতে বলেন নাই। তাহলে সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকাতেই কি এখন সাখাওয়াত হোসেন খান দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা কারী হয়ে গেলেন?

অথচ, অতীতে যখন বর্তমান মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের মধ্যকার কোন্দলের কারনে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, তখন তো দলের হাইকমান্ড তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নাই! উপরন্তু বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকার পাশাপাশি ওয়ান এলিবেনের সময় সংস্কারবাদী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেও এখন মহানগর বিএনপির সভাপতি বনে গেছেন এড. আবুল কালাম। আর বিএনপি থেকে পল্টি দিয়ে এলডিপিতে যোগদানের পর ফের বিএনপিতে ফিরে এসে মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেকে হাইলাইটস্ করে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক বনে গেছেন এটিএম কামাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here