নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মাত্র তিন সদস্যের আংশিক কমিটি নিয়েই সাংগঠনিক ভাবে বেশ অগ্রসর হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। কিন্তু কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে এখন বেকায়দায় রয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগ।
জানাগেছে, গত বছর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের তিন সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকেই দলীয় কর্মসূচী পালনসহ সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে বেশ অগ্রনী ভূমিকা পালন করছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই খসড়া তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। যা এখন দলীয় সভাপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

শুধু কমিটি গঠনই নয়, তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানও শুরু করে দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের বিগত ৮ বছরের উন্নয়ণ চিত্র জনসাধারনের কাছে তুলে ধরে আগামীতে ফের নৌকার বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা পর্যায়ে গণসংযোগও শুরু করে দিয়েছেন তারা।

এছাড়াও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের এই দু’টি আসন জাতীয় পার্টিকে আর ছাড় দিতেও সর্বপ্রথম দাবী তুলেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। প্রথম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই জেলার ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দাবী করার পর জেলার সহ-সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলসহ হেভীওয়েট অনেক নেতারাই এখন দাবী তুলছেন আগামীতে নারায়ণগঞ্জে আর কোন আসন অন্য দলকে আওয়ামীলীগ ছাড় দিবে না।

অথচ, প্রায় দু’বছর পূর্বে আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও এড. খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলেও অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে দলীয় কর্মসূচী পালনসহ সাংগঠনিক ভাবে জেলা আওয়ামীলীগের চেয়ে অনেকাংশেই পিছিয়ে পড়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

কারন হিসেবে তারা বলেন, গত ৩০ জুলাই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপুমনি এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ আনুষ্ঠানিক ভাবে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেও এখনো পর্যন্ত ২৭ টি ওয়ার্ডে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগ।

এছাড়া বর্তমান সরকারের বিগত ৮ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন উন্নয়ণ চিত্র তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের দ্বারে তুলে ধরতে ‘উঠান বৈঠক’ করার নির্দেশনা থাকলেও তাও করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগ।

উপরন্তু একটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধাচরন করায় এখন বিভক্ত হয়ে গেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। কমিটির একাংশের নেতৃবৃন্দরা সভাপতি সাধারন সম্পাদকের পক্ষে থাকলেও আরেকটি অংশ রয়েছে শামীম ওসমানের পক্ষে।

সম্প্রতি মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও সাংসদ শামীম ওসমানের সুপারিশে জেলা ও মহানগর যুব মহিলালীগের পাল্টা কমিটি, কৃষকলীগ কমিটি গঠন ইস্যুতে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ দেয়াসহ বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা।

এরপর শামীম ওসমানের বিরুদ্ধাচরনকারী মহানগর আওয়ামীলীগের এই তিন শীর্ষ নেতাকে বেঈমান আখ্যায়িত করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন অঙ্গসংগঠনসহ তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

যেখান থেকে মূলত বিভাজনের সূত্রপাত ঘটে মহানগর আওয়ামীলীগে। আর তা স্পষ্ট হয়েছে গত ৫ আগষ্ট শহরের ২নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভাতে।

দেখাগেছে, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক এড. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত সভাতে উপস্থিত ছিলেন না শামীম ওসমানপন্থী নেতারা।

কারন হিসেবে জানাগেছে, মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সদস্য এহসানুল হাসান নিপুসহ বেশ কয়েকজন কে উক্ত সভায় উপস্থিত থাকার জন্য সভাপতি বা সাধারন সম্পাদক কেউই আমন্ত্রণ জানান নি।

তাই কোন্দলের কারনে মহানগর আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় বেকায়দায় পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার দাবী, মহানগর আওয়ামীলীগে কোন কোন্দল নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানসহ আগামী নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here