নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষটি হকারদের সাথে সিটি মেয়র আইভীর লড়াই বলে দাবী করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একে এম শামীম ওসমান।
বুধাবর (১৭ জানুয়ারী) নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন এই দাবী করেন তিনি।

শামীম ওসমান দাবী করে বলেন, ‘লড়াইটা হকারদের সাথে আইভীর সমর্থকদের হয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ এটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য শামীম আইভীর দ্বন্দ বানাতে চাইছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখানো ফুটেজ ও ছবিতে সেদিনের সঠিক বিষয়টি ফুটে উঠেনি। নিয়াজুলের অস্ত্রের ছবি সবাই দেখিয়েছে কিন্তু সিটি মেয়র আইভীর সাথে থাকা তার ঘনিষ্টজন সুফিয়ান ও বিএনপি’র সন্ত্রাসী সুমনের ছবি কোথাও দেখায়নি। কিছু মিডিয়া এটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে। অথচ প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, পুলিশ যখন আমাকে জানালো যে আইভী ফুটপাতে হেঁটে মিছিল নিয়ে চাষাড়ায় আসছে, তখন আমি হকারদের কোন প্রকার বাঁধা না দিয়ে শান্ত থাকতে বলি। কিন্তু প্রথমে পাট অফিসের সামনে আসার পরেই আইভীর সমর্থকরা হকারদের উপর চড়াও হয়, বেশ কয়েকটি চকিতে আগুন জ¦ালিয়ে দেয়। তারপর হকাররা ক্ষিপ্ত হলে আমি সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ফোন পেয়ে হকারদের নিবৃত করার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন,‘ অস্ত্র হাতে থাকা নিয়াজুল আমার কর্মী না। সে একজন ব্যবসায়ী, একটি মার্কেটের মালিক। তবে নিয়াজুলের বড় ভাই নজরুল ইসলাম সুইট তার কর্মী ছিলো, যাকে বিএনপি শাসনামলে জেলাখানা সন্ত্রাসী তৈমূর খোরশেদ গং জেলখানা থেকে বের করে র‌্যাব দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু তারপরও আমি নিয়াজুলের সমর্থণে কিছু বলবো না। সে যদি অন্যায় করে থাকে তবে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তার আগে প্রশাসনকে নিয়াজুলের হাতের অস্ত্রটি উদ্ধার করতে হবে। কারন ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে নিয়াজুলের হাতের অস্ত্রটি একজন কেড়ে নিয়েছে।’

এ সময় সাংসদ শামীম ওসমান সুফিয়ান এবং সুমনের অস্ত্র হাতে দুটি ছবি সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, হামলা যদি আমরাই করলাম, তাহলে সুফিানরা অস্ত্র হাতে নিলো কেন! আর আইভী আওয়ামীলীগের দলীয় মেয়র হয়েও তার সাথে যুবদলের সন্ত্রাসী খোরশেদ থাকবেন কেন, যার নামে একাধীক সন্ত্রাসীর মামলা রয়েছে। মেয়র সাথে থাকা বিভার স্বামী ও তার ভাই ডবল মার্ডার মামলার প্রধাণ আসামী। বিএনপি’র ক্যাডার নিয়ে তিনি কেন অসহায় হকারদের উপর হামলা চালালেন! বিএনপি’র খোরশেদরা আইভীর কাঁধে ভর করে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। সেই সাথে সেদিন কি পরিস্থিতিতে নিয়াজুল অস্ত্র হাতে নিয়েছিলো, তার ভিডিও ফুটেজ পেন ড্রাইভে করে সাংবাদিকদের দিয়ে বলেন, নিয়াজুল সেদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো, তাকে অতর্কিতে ধরে ৫০ জন লোক তিন দফা পিটিয়েছে, তখন বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে সে তার সাথে থাকা লাইসেন্স করা অস্ত্র বের করেছে। পেন ড্রাইভে রাখা ভিডিও ফুটেজ দেখলে সকল কিছু স্পষ্ট বুঝা যাবে।

তিনি আরো বলেন, ফুটপাতে হকার থাক, আমি নিজেও এটিকে সমর্থন করি না। আমি চাইনা কেউ ফুটপাতে বসে হকারি করুক, চাইনা কোথাও কোন বস্তি থাকুক। কিন্তু হঠাৎ করে কোন প্রকার পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই গত ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের হকারদের পিটিয়ে তাদের মালপত্র জব্দ করে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশন। এবং সেই মালামালের অনেকগুলো নাকি সিটি কর্পোরেশনের সামনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। হকারদের সারা বছরের মধ্যে আটমাসের ব্যবসা করে তারা শীতের সময় শীত বস্ত্র বিক্রি করে। এ জন্য তারা বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে মালামাল ক্রয় করে থাকে। কোন প্রকার ঘোষনা ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করে দেয়ায় তাদের পূঁজির টাকাটা আটকে যায়। সেই সাথে কিস্তির টাকাও জমে যায়। গরীব অসহায় হকাররা কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপণ করতে থাকে আর মেয়র, ডিসি, এসপি’র কাছে ঘুরতে থাকে। কিন্তু কোথাও সমাধান আসে না।

তখন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আমার বড় ভাই একেএম সেলিম ওসমানের কাছে যায় হকাররা। সাংসদ সেলিম ওসমান তখন তার নিজের প্যাডে একটি চিঠি লিখেন মেয়র আইভী বরাবর, কিন্তু মেয়র তার এক কর্মচারী দিয়ে সেই চিঠির জবাব দিলেন এবং তাতে হকারদের বসার জন্য যে জায়গাগুলোর কথা বললেন, সেগুলো সরকারী জায়গাই না। তখন বাধ্য হয়ে হকাররা আসে আমার কাছে। আমি ১৫ জানুয়ারী তাদের নিয়ে সমাবেশ করি। আমি দুর্দশাগ্রস্থ হকারদের আর্তনাদ শুনে সেদিন ঠিক থাকতে পারিনি। কারন আমি নিজেও একদিন না খেয়ে থেকেছি। আমি জানি ক্ষুধার জ¦ালা কত বড়। তাই তাদেরকে সাময়ীকভাবে ফুটপাতে বসার নির্দেশ দিয়েছিলাম। যাতে করে তারা অন্তত তাদের পূঁজিটা তুলতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার সিটি মেয়র আইভী বিএনপি’র ক্যাডারদের সাথে নিয়ে নিরীহ অভুক্ত হকারদের উপর হামলা চালিয়েছে।

অথচ এই হকারদের কাছেই কয়েকদিন আগে হাত পা ধরে, বাপ ভাই ডেকে ভোট চেয়েছি এই আইভীর জন্য। ভোটের আগে বাপ ডাকবো, আর ভোট শেষ হলে লাথি মারবো, সেই ভন্ডামীর রাজনীতি আমি করি না। তাই হকারদের পূণর্বাসনের জন্য মেয়র, এমপি, ডিসি, এসপি, চেম্বর অব কমার্স, দোকান মালিক সমিতি আর হকাররা বসে একটি স্থায়ী সমাধানের আহবান জানাবো। কারো রুটি রুজি কেড়ে নেওয়া সহজ, কিন্তু তা ঠিক করে দেয়া অনেক কঠিন। দয়া করে তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here