নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মো: শাহ আলমের অনুসারীদের কর্মচারী আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দেয়া নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু অবশেষে সেই শাহ আলমের বাসায় ঈদ পূণর্মিলনীতে উপস্থিত হয়ে নিজেই শাহ আলমের কর্মচারী বনে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সুযোগ সন্ধানী টিপুর কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই এবং যখন যার কাছ থেকে সুবিধা পান, তখন তার মুরিদ হয়ে যান বলেও দাবী বিএনপি তৃণমূলের। এবং এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাহ আলমের বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়ার গুঞ্জণে শাহ আলমের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েই টিপুর নতুন ফিকির, যেমনটা করেছিলেন সিটি নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে।

ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রনিকে ‘বিএনপি’র কর্মী নয়, বরং শাহ আলমের কর্মচারী’ উল্লেখ করে গন মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু ওরফে পাকনা টিপু। সেই সাথে শাহ আলমকে রাজনীতির মাঠে পাওয়া না গেলেও কমিটি গঠনের সময়ে পাওয়া যায় বলে নানা অপপ্রচার করেছিলেন টিপু। এবার ভোল পাল্টে সেই শাহ আলমের কাছেই টিপুর আগমনকে তাই সহজভাবে নিচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল।

তাদের মতে, মৌমাছি যেমন মধুর লোভে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বিচরন করে, পাকনা টিপুও তেমনি সুবিধা লাভের আশায় নেতা বদলের খেলায় একজন পাকা খেলোয়ার। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে শাহ আলম বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় শাহ আলম শিবিরে ভীড় জমিয়েছেন টিপু।

টিপু সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল জানায়, টিপু একেক সময় একেক জনের ছায়াতলে থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে যে কোন নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই শুরু হয়ে যায় টিপুর এই নেতা বদলের খেলা। অনেকটা যে কোন খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে খোলোয়ারদের দলবদলের মতো টিপু নেতা বদলের ক্ষেত্রে একজন পাকা খেলোয়ার।

যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে থেকে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সহচর্যে ছিলেন সর্বক্ষণ। টিপুকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেয়ার কারনে নেতাকর্মীদের কথাও শুনতে হয়েছে সাখাওয়াতকে। পুরো নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটি ঘোষনা হওয়া পর্যন্ত সাখাওয়াতের সাথেই ছিলেন টিপু। এ সময় সাখাওয়াতকে খুশি করতে বিভিন্ন নেতার নামে বিষেদগারও করেছেন টিপু। আর টিপুর এই স্বভাবের কারনে সাখাওয়াতের অনেক শুভাকাঙ্খিও সাখাওয়াতকে ভুল বুঝেছে। সাখাওয়াতের বদান্যতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও লাভ করেন।

কিন্তু আর যখনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনের বিষয়ে দলীয় সবুজ সংকেত মিললো, তখনই সাখাওয়াতকে ছেড়ে নতুন কোন পীরের সন্ধানে নামেন টিপু। আর এ ক্ষেত্রে সাখাওয়াতের চেয়ে বেশী নির্ভরশীল মনে করেন তিনবারের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালামকে। যার প্রমাণ, পুরো নির্বাচনে সাখাওয়াতের সবচেয়ে কাছে থেকেও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করেননি টিপু। কিন্তু নির্বাচনের প্রায় ছয়মাস পরে বললেন, নির্বাচনে ওসমান পরিবার থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছেন সাখাওয়াত! টিপুর তখনকার সেই বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে। পাশাপাশি কাকে খুশি করতে সাখাওয়াতকে পল্টি মারলো টিপু, সে প্রশ্নও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। পওে অবশ্য প্রকাশ পায় টিপুর নতুন নেতা হচ্ছেন এড. আবুল কালাম।

তেমনিভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় শাহ আলমের দিকে ঝুঁকেছেন টিপু। কারন শাহ আলম রাজনীতির পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় বিশাল ধন সম্পদের মালিক। তাই এ ধন সম্পদ থেকে কিছুটা নিজের পকেটে পুরে নিতে নিজেকে শাহ আলমের কর্মচারী বানাতেও দ্বিধা করেননি এই সুযোগসন্ধানী বিএনপি নেতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here