নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে অপরিচিত মুখ হলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে ঘনিষ্টতার কারনে নিজেকে বিশাল রাজনীতিবীদ মনে করেছিলেন আবু সুফিয়ান। আর এ কারনেই গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে চেয়েছিলেন আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমপি হওয়ার সাধ তার পূরণ হয়নি। এরপরে তিনি হতে চেয়েছিলেন বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এরজন্য অনেক চেষ্টা ও দেন দরবার চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।

এদিকে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যখন হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ, দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যেখানে কাজ হারিয়ে দিশেহারা তখন এই শহরের এক সময়ের সেরা করদাতা আবু সুফিয়ানের দেখা নেই। সামান্য চাওয়ালা থেকে মেয়রের সুদৃষ্টিতে কোটিপতি বনে যাওয়া এই নেতা উধাও হয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে। সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হওয়ার আশায় চেয়েছিলেন বেশ কয়েকবার দলীয় মনোনয়ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা বন্দর উপজেলা নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চাইলেও এসব এলাকার মানুষের চরম দুর্দিনে খোঁজ নেই আবু সুফিয়ানের। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দূর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা করার কথা থাকলেও অজানা কারনে খোঁজ মিলছে না তার।

জানা যায়, অতীতে ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না তিনি। শহরবাসীর কাছে তিনি একজন ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচিতি পাল্টে হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কল্যানে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন আবু সুফিয়ান। পদ পেয়েই শহর ও শহরতলী জুড়ে পোস্টার লাগিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পদ গেয়েই শহরে বিশাল শো-ডাউনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু পদ বাগিয়ে নিলেও দলীয় কর্মসূচীতে তাকে দেখা যায়নি।

মেয়র আইভীর যে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন সুফিয়ান। এছাড়াও নির্বাচন আসতেই রাজনীতিতে জেগে উঠেন তিনি। গত একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দর আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর হয়েছিল আবু সুফিয়ান ওরফে আলগা সুফিয়ান। মাথায় কৃত্রিম চুল ব্যবহার করায় প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে গোপনে তাকে অনেকেই আলগা সুফিয়ান বলে থাকেন। একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বন্দর উপজেলা নির্বাচনে ফের তৎপর হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পুনরায় রাজনীতিতে নিশ্চুপ হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল উন্নয়ন প্রকল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সুফিয়ানের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে তবে মেয়র আইভীর আশির্বাদে সেই অনিয়ম নিয়ে মুখ খোলতে সাহস পান না সাধারণ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here