নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সাংসদ শামীম ওসমানের আদেশ ‘শিরধার্য’ মেনে মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে এবার ‘হার্ডলাইনে’ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। এখন শুধু চুনোপুঁটিই নয়, মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের গ্রেফতারে পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হকের নিদের্শে ডিবি পুলিশ, সদর, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দিনভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।

যেই কারনে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বৃহত্তর মাসদাইরের অন্যতম দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও তালিকা ভুক্ত অঁধরা মাদকের ডন, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীনকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর খুঁজে বের করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো: মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই মো: মিজানুর রহমান।

তারপর গত ১৩ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর রাতে শহরের গলাচিপা বোয়ালিয়া খাল এলাকায় বন্দুক শাহীনকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে গেলে সেসহ তার সহযোগীরা ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছুঁড়ে। এসময় ডিবি পাল্টা গুলি ছুঁড়লে ‘বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত হন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক শাহীন। আর সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া ককটেলের বিস্ফোরিত স্পিøন্টারের আঘাতে আহত হন ডিবি ওসি মো: মাহবুবুর রহমান ও এসআই মিজানুর রহমান।

ডিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত এই বন্দুক শাহীন একসময় ভাল খেলোয়াড় থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর একবার কাঁটা রাইফেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ‘বন্দুক শাহীন’ হিসেবে উপাধি পান। তারপর ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের সাথে আঁতাত করে বন্দুক শাহীন শহরের গলাচিপা থেকে বৃহত্তর মাসদাইর পর্যন্ত মাদক বিক্রির প্রায় ৫শ’ স্পট গড়ে তোলেন। শহর ও জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার বেশিরভাগ স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা এখান থেকেই ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল সংগ্রহ করতেন।

আর এই বিশাল মাদক সা¤্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে তার ছিল প্রায় দেড়শ’ সেলসম্যান, ১৫ জন মোবাইল ‘অপারেটর’। যাদের প্রধান কাজ মাসদাইর এলাকার সংযোগপথে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রবেশের খবর দেয়া।

যেই কারনে র‌্যাব, ডিবি, পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অনেকবার চেষ্টা করেও বন্দুক শাহীনের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। বন্দুক শাহীনসহ তার পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ডিবি পুলিশের উপর হামলাও চালিয়েছিল। কিন্তু বরাবরই অঁধরা ছিল দূর্ধর্ষ বন্দুক শাহীন।

অত:পর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে ‘বন্দুক শাহীন’ অধ্যায় শেষ করতে সক্ষম হয় ডিবি।

এছাড়াও গত ১২ অক্টোবর ডিবির এসআই মো: মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই আবুল কালাম আজাদ, এসআই সায়েম আহম্মেদ, এএসআই প্রকাশ চন্দ্র সরকারসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইলস্থ ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সামনে মালবাহী ট্রাক (চট্ট মেট্রো-ট-১১-৩৫৬৩) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশী চালিয়ে ১৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ চট্টগ্রাম জেলাধীন সীতাকুন্ড থানার উত্তর ঘোড়ামারা এলাকার মৃত আলমের পুত্র ট্রাক মালিক মো: আবুল কালাম ওরফে হাসেম (৪৫), পটিয়া থানার উলাইন গ্রামের মৃত মামুন মিয়ার পুত্র ড্রাইভার মো: মনির আহম্মেদ (৬০) ও সীতাকুন্ড থানার দেলাপাড়া গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর পুত্র হেলপার মো: মনসুর (৩০)কে গ্রেফতার করেন।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সর্বাধিক ৯২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক বিশাল মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছিলেন।

অপরদিকে, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নগরীর মাদকের দু’টি চিহিৃত স্পট টানবাজার সুইপার কলোনী ও ডিআইটি র‌্যালী বাগানে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি একেবারে বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন মীর শাহীন শাহ্ পারভেজ।

শুধু মাদকের স্পট বন্ধই নয়, মন কি মন গাঁজা, শত শত বোতল ফেন্সিডিল, হাজার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতেও সক্ষম হন তার নেতৃত্বে সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা।

তাছাড়া ফতুল্লা মডেল থানাধীন এলাকায় ওসি মো: কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছেন দারোগারা।

আর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী এমন অভিযানের এখন স্বস্তি ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেন সাধারন অভিভাবকরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, এই মাদকের কারনে আমাদের সন্তানেরা ধ্বংসের পথে নিমজ্জিত হচ্ছিল। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমানের কঠোর নির্দেশ, পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশ ও পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিকতায় আজ মাদকের গডফাদাররা গ্রেফতার হচ্ছেন। আমরা এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি শামীম ওসমান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আপনারা যার যার এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের তালিকা আমাকে দিন। আমি এ তালিকা প্রথমে প্রশাসনকে দেবো। দেখবো প্রশাসন কী করে। যদি প্রশাসন না ধরে তাহলে আমি নিজেই মাঠে নামবো। মাদক বিক্রেতাদের বাড়ির ইট খুলে নিয়ে আসবো। বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে আমি শামীম ওসমান একা মাদক ব্যবসা বন্ধ করে দেখিয়ে দেবো। মাদক ব্যবসায়ীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ খালি করে ফেলার মতো ফোর্স আমার আছে। ভিমরুলের চাকের মতো মারব, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসবো।’

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে করে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরেন। কোনও নিরীহ লোক যেন না ফাঁসে। ল্যাংড়া করে পারেন, গুলি করে পারেন, গুলি ছাড়া পারেন ওদেরকে ধরেন, এস সুন এস পসিবল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here