নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আলোচিত সাত খুন মামলার পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে বিষ জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যা চেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবীতে এসপিকে দেয়া আইনজীবীদের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হয়েছে রবিবার।
কিন্তু সোমবার (২৮ আগষ্ট) আল্টিমেটামের আরো একদিন বেশী অতিবাহিত হলেও পিপি কণ্যাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার কিংবা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মাইশার হত্যা চেষ্টাকারীদের গ্রেফতার দাবীতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার পরিকল্পনা করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি।

তবে সেই আন্দোলন কবে নাগাদ শুরু হবে, নাকি আদৌ হবে না, তা নির্ভর করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের পদক্ষেপের উপড়। কেননা, পিপি কণ্যাকে হত্যা চেষ্টার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মঙ্গলবার পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হকের সাথে সাক্ষাত করতে যাবেন আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দরা। যদি পুলিশ সুপারের কাছ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে আশানুরূপ কোন অগ্রগতির সংবাদ না পান তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন আইনজীবীরা।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘মাইশাকে হত্যা চেষ্টা ঘটনায় পুলিশের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে মঙ্গলবার এসপির সাথে তারা সাক্ষাত করবেন। যদি এসপি এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে আশানুরূপ কিছু জানাতে না পারেন তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী দেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগষ্ট সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে অবস্থিত ‘হাজী মঞ্জিলের’ সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশাকে বিষ জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অপহরণের চেষ্টা চালায় খোকনের বন্ধু পরিচয়দানকারী পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যাক্তিসহ রাস্তায় একটি প্রাইভেটকারে অপেক্ষমান ৩ যুবক। পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন মাইশা। এরপর তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে, এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরিয়ে আনা হয়।

এব্যাপারে মেয়ের বরাত দিয়ে এড. ওয়াজেদ আলী খোকন জানিয়েছিলেন, ‘বিকেলে প্রাপ্তি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উল্টো দিকে অবস্থিত হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তার মামা তৌহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে পড়া শেষ করে নিচে নেমে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল সে। ওই সময় স্যুট পরিহিত একজন হ্যান্ডসাম ব্যক্তি একটি কেরিনা গাড়ি থেকে নেমে প্রাপ্তির কাছে এসে জানতে চায়, ‘সে নারায়ণগঞ্জের পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে কি না?’

‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর পেয়ে অপহরণকারী নিজেকে তার বাবার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপরই অপহরণকারী প্রাপ্তিকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘মঙ্গলবার তো তোমার বাবার জন্য একটি বিশেষ দিন ছিল। তোমার বাবা ৭ খুনের যে মামলা নারায়ণগঞ্জে লড়েছিল সেই মামলায় হাইকোর্ট আসামীদের রায় বহাল রেখেছে। এজন্য তোমাকে মিষ্টি খাওয়াতে এসেছি।’ এ কথা বলেই জোর করে প্রাপ্তির মুখে একটি মিষ্টি গুঁজে দিয়েই পানি খাইয়ে দেয়। ওই সময় সে সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করতে পেরে অপহরণকারীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় এসে একটি রিকশায় উঠে পড়ে এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়ে কাঁদতে শুরু করে। পরে রিকশার পেছন দিয়ে তাকিয়ে দেখে, তাকে অপহরণের চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তি সাদা রঙের কেরিনা গাড়িতে চড়ে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকার দিকে চলে যাচ্ছে।’

খোকন আরও জানান, এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মেয়ের কাছে সব শুনে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এরপর রাতেই চিকিৎসা শেষে মাইশাকে বাসায় নিয়ে আসেন।

এঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন মাইশার মা।

আর পাবলিক প্রসিকিউটর এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের কন্যা মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে গত ২৪ আগষ্ট আদালত প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপারকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারী প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here