নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: স্বামীকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং থানা হাজতে শারীরিক নির্যাতন করায় ন্যায় বিচার পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জের এক নিরীহ মুদি দোকানদারের স্ত্রী রহিমা বেগম। স্থানীয় কাউন্সিলর এবং থানা যুবলীগ আহ্বায়কের নির্বাচন না করায় ঐ স্ত্রীর স্বামীকে একের পর এক হয়রানি করায় পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম দুই সন্তানের পড়ালেখা।

গত ১৯ আগষ্ট শনিবার পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের কপি বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে এসে পৌঁছে। এদিকে ওই পরিবারটি নিরাপত্তার অভাবে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের তিনি মুঠোফোনে জানান।

আবেদনে ঐ স্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে তার স্বামী মনির খান ৬ নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু ঐ নির্বাচনে বিজয়ী হয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মতিউর রহমান মতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া এবং এস আই রাসেল আহমেদকে ম্যানেজ করে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে থানা হাজতে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছে তার স্বামীকে।

রোজার পরে একটি চুরির মামলায় তার স্বামী মনির খানকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তারের নির্দেশে এস আই রাসেল থানা হাজতে অমানুষিক নির্যাতন করে আদালতে প্রেরণ করে। ঐ মামলায় মনির খান ১৫ দিন হাজতবাস শেষে এলাকায় ফিরে আসে। ঐ সময় থানা হাজতে তার উপর অমানুষিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী প্রায় ২০ দিন চিকিৎসাধীন ছিল বলে উল্লেখ করা হয় আবেদনে। এরপর ১৪ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর কাঙ্গালী ভোজের আয়োজনস্থল থেকে তাকে থানায় যাওয়ার নির্দেশ দেয় এসআই রাসেল। এসাই রাসেলের নির্দেশমত মনির খান থানায় গেলে ওসি আব্দুস সাত্তার থানা হাজতে আটকে রাখে মনির খানকে। পরে তার স্ত্রী রাহিমা বেগম থানায় গেলে ওসি তাকে জানায়, কোন অভিযোগ খুজে না পেলে আপনার স্বামীকে সকালে ছেড়ে দেব। এসময় ওসি আব্দুস সাত্তার জানায় আপনি এসআই রাসেলের সাথে কথা বলেন।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, এসআই রাসেলের সাথে রহিমা বেগম যোগাযোগ করলে এসআই রাসেল রহিমা বেগমকে জানায়, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাই ১ লাখ টাকা লাগবে। টাকা না দিলে আপনার স্বামীকে পুরনো একাধিক মামলা দিয়ে রিমান্ডে এনে নির্যাতন করা হবে বলে দারোগা তাকে জানিয়ে দিয়েছে বলে তিনি ঐ আবেদন উল্লেখ করেন। পরে তিনি ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে এসআই রাসেলকে দিয়ে আর কোন টাকা দিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়। এসআই রাসেলকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়ার পরও ওসি আব্দুস সাত্তার তার স্বামীকে দুইটি মামলায় (নং- ৭৩, তাং- ৩১/৫/২০১৭ এবং মামলা নং- ৪৬, তাং- ১৮/৭/২০১৭ ইং) আদালতে সোপর্দ করে। ঐ দুই মামলার এজহারে তার স্বামীর কোন নাম ছিলনা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে তার স্বামী জেলহাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার স্বামীর একটি মুদি দোকান ছিল উল্লেখ করে রহিমা বেগম গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের জানায়, অব্যাহতভাবে পুলিশ ও কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ক্যাডারবাহিনী দ্বারা হয়রানির কারণে তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই কারণে তার দ্ইু সন্তানের লেখা-পড়া করানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে পরিবারটি ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন বলে তিনি জানান। ঐ নারীর অভিযোগের ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানায়, মানির খান চট্টগ্রাম থেকে চোর ভাড়া করে এলাকায় চুরি করায়। তাকে জেলের ভিতরে রাখলে এলাকাবাসী শান্তিতে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here