নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কাশীপুরে জোড়া খুনে জড়িতদের সনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এতথ্য জানান তিনি।

মঈনুল হক বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের সনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে দিয়েছেন।’

এরআগে শালিসী বৈঠকে এসে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক মাল্টিপারপাস কোম্পানীর মালিক ও ম্যানেজারকে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা। এসময় নিহতদের লাশ নিশ্চিহৃ করে দেয়ার লক্ষ্যে দুবৃর্ত্তরা ঘটনাস্থল অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন জ¦ালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টায় ফতুল্লা মডেল থানাধীন কাশীপুর ইউনিয়নের হোসাইনী নগর এলাকায় রাজীবের মালিকানাধীন অটো রিক্সার গ্যারেজে এই ঘটনা ঘটে। এসময় মিল্টন, পারভেজকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন গ্যারেজ মালিক রাজীব।

নিহত মিল্টন (৩০) কাশীপুর হোসাইনী নগর ছবির হাওলাদারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া সাহেব আলীর পুত্র। সে স্থানীয় ছায়াবৃত্ত মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ কোম্পানীর মালিক ছিল। আরেকজন পারভেজ (২৮) একই এলাকার মিজানুর রহমানের পুত্র ও উক্ত মাল্টিপারপাসের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত মিল্টন এবং হামলাকারীরাও মহানগর বিএনপি নেতা হাসান আহাম্মেদ-মজিদ খন্দকার অনুসারী ছিল। মিল্টন কয়েকদিন আগে শহরের বাবুরাইল এলাকায় একজনকে কুপিয়ে আহত করেছিল। যার রেশ ধরে এদিন সন্ধ্যায় রাজীবের গ্যারেজে বিচার শালিশী হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকারসহ একদল লোক এখানে এসে একপর্যায়ে চলে যায়। এর প্রায় ঘন্টাখানেক পর ধারালো অস্ত্র হাতে প্রায় ২০/৩০ জন দুবৃর্ত্ত অটো রিক্সার গ্যারেজে ঢুকে মিল্টন ও তার সাথে থাকা পারভেজকে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে গ্যারেজটিতে আগুন লাগিয়ে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, শহরের বাবুরাইল এলাকার মানিক মিয়ার পুত্র শহীদ, ভূইপাড়া আলসাবা এলাকার রকি, মামুনের ভাই ফয়সাল, মোক্তার, রবিনসহ প্রায় ২০/৩০ চাপাতি রাম দা হাতে দৌঁড়ে এসে রিক্সার গ্যারেজে প্রবেশ করেই মিল্টন ও পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এই ঘটনার পর মিল্টনের স্বজনদের ঘটনাস্থলে দেখা না গেলেও পারভেজের মা বাবাসহ স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এসময় নিহত পারভেজের মা ছেলের খুনের ঘটনায় বার বার মূর্ছা যান।

তবে তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল উদ্দিন হত্যাকান্ডে জড়িত কারো নাম প্রকাশ করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত মিল্টনও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক ছিল। তবে পারভেজ তার সাথে থাকায় সহযোগী হিসেবে হত্যাকান্ডের শিকার হন।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here