নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দলীয় চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েও তা বাস্তবায়ণ করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি, রয়ে গেছে বিচ্ছিন্ন।
চলমান কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে আর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একত্রে না দেখে এমনটাই মন্তব্য করেন তৃণমূল। আর এতে কর্মী সমর্থকরাও নেতাদের কারনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামে যেতে পারছে না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ ভুলে দলের এই ক্রান্তিকালে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের।
সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যকার ব্যক্তিগত কোন্দলে জর্জরিত থাকায় দলের মাঝে সৃষ্টি হয়েছিলো বিভাজন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি মো: শাহ আলম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম, সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানসহ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মাঝে বিভক্তি ছিলো চরম আকারের। দলীয় বা জাতীয় কোন কর্মসূচিতে এসব নেতাদের এক কাতারে দেখা যায়নি কখনো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় চেয়ারপার্সন এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত জয়নুল আবেদীন ফারুক নেত্রীর মুক্তির দাবীতে সকল কর্মসূচী জেলা ও মহানগর বিএনপিকে ঐকবদ্ধ ভাবে পালনের ঘোষণা দিলেও একটি মাত্র কর্মসূচী পালনের পরেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।

নেত্রীর মুক্তির দাবীতে ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে চাষাঢ়া বালুর মাঠে এক হয়েছিলেনও তারা প্রায় সবাই।

কিন্তু ওইটুকুতেই শেষ তাদের ঐক্য। যদিও নেতাদের সেদিনের ঐক্যবদ্ধ রূপে আশার আলো জ¦লে উঠেছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্তু নেতাকর্মীদের হতাশ করে দিয়ে আবারো বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে গত বছরে ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কোন কমিটিতে রাখা হয়নি। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র সাথে এড. তৈমূরের একটা দুরত্বের সৃষ্টি হয়। কিন্তু দলীয় চেয়ারপার্সণের সাজার প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবীতে ডাকা কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয় এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে। আর এড. তৈমূর আলমও অতীতের সব ক্ষোভ ভুলে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারো রাজপথে নামেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠনের পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে সভাপতি এড. আবুল কালামের সাথে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়।

এড. আবুল কালাম সাখাওয়াতকে পর্যুদস্ত করতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র পরগাছা হিসেবে বিবেচিত বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে লেলিয়ে দেন সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপ প্রচার করতে। টিপুও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাখাওয়াতকে নিয়ে একের পর এক মানহানীকর বিবৃতি দিতে থাকেন। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দর সাথে সাখাওয়াতের একটা দুরত্বের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা গৃহবন্দি কর্মসূচি পালন করলেও সাখাওয়াত ঠিকই রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।

এতে করে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের গাত্রদাহ শুরু হয় এবং তারা কেন্দ্রেীয় বিএনপি’র কাছে সাখাওয়াতের কাছে নালিশ করেন। তবে দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় নেত্রীর মুক্তির দাবীতে সাখাওয়াত-আবুল কালামও তাদের পুরানো দ্বন্দকে ভুলে গিয়ে একসাথে কর্মসূচি পালন করছেন। অবশেষে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা এক টেবিলে বসায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু তাদের সে আশায় গুঁড়েবালি দিয়ে শীর্ষ নেতারা আবারো তাদের পুরানো রূপে ফিরে যাওয়ায় নেতাকর্মীরাও হয়ে যাচ্ছেন বিচ্ছিন্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here