নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করে নানা বিভেদ আর কোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক প্লাটফরমে এসে দাড়িয়েছিলো, আর এই নির্বাচনের ১১টি পদে জয়লাভ করে তারা ঐক্য প্রমাণের অগ্নি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। সেই সাথে এ ঐক্য ধরে রেখে আগামী দিনের বার নির্বাচনে আরো শক্তিশালী প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে শীর্ষ পদগুলিতেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাবে বলে অভিমত তাদের।
সূত্রে প্রকাশ, সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ কোন্দলে জর্জরিত ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। আর এই বিভেদের কারনে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতেও বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মাঝে বিভক্তি ছড়িয়ে পরে। আর এ সুযোগে সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কতৃত্ব হারাতে থাকে তারা। এমনকি আদালত পাড়ায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি নিয়েও পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরী হয় নিজেদের মধ্যে। আসন্ন বার নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়েও সৃষ্টি হয়েছিলো জটিলতার। সাংসদ শামীম ওসমানের পছন্দে আওয়ামীলীগ সমর্থীত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার উপর দেওয়ায় বিএনপি সমর্থীত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যাণেল গঠনে দেখা গেছে দায়সারা ভাব। দলের প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তখন সবাই মিলে এড. জহিরুল হককে দাড় করিয়ে দেন সভাপতি পদে। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেয়া হয় এড. আবদুল হামিদ ভাষানীকে, যার গ্রহনযোগ্যতা খোদ বিএনপিতেই ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে আওয়ামীলীগ প্যাণেলের বিপরীতে জহিরুল-ভাষানী প্যাণেল ছিলো খুবই নড়বড়ে।

কিন্তু নির্বাচনী আগে এসে উল্টে যেতে থাকে সকল হিসেব নিকেশ। নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃতে ব্যক্তিগত সকল দ্বন্দ সংঘাত ভুলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল নেতা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে চলে আসেন, আর তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ আদালতের সকল বিএনপি পন্থী আইনজীবীরাও উজ্জিবীত হয়ে মিলে মিশে একাকার হয়ে যান। আর প্রচারনার শেষ দিকে এসে নারায়ণগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী এড. তৈমূর আলম খন্দকার সিনেট নির্বাচন শেষ করে নারায়ণগঞ্জ বার নির্বাচনের গন সংযোগে আসলে আদালত পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিনিয়র এই আইনজীবীর গ্রেফতারে সকল ভেদাভেদ ভুলে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা এক প্লাটফরমে দাড়িয়ে যান আর আসন্ন বার নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তৈমূরের উপর পুলিশি নির্যাতনের জবাব দেওয়ার শপথ নেন। সেই সাথে এবারের বার নির্বাচনের জন্য এড. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে গঠন করা নির্বাচন কমিশনের কল্যাণে স্মরণকালের সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ১৭টি পদের মধ্যে ১১টিতেই জয়লাভ করতে সক্ষম হয় বিএনপি। আর দুর্বল মনোনয়নের জন্য শীর্ষ দুটি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজিত হন তারা। তাই বার নির্বাচণ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধতার প্রমাণ রাখতে পেরেছে বিএনপি, আর ভবিষ্যতে শক্তিশালী প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে পূর্ণ ক্ষমতা দখল করতে পারবে বলে মনে করেন সকলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here