নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করে নানা বিভেদ আর কোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক প্ল্যাটফরমে এসে দাঁড়িয়েছে, আর এই ঐক্য প্রমাণের মঞ্চে নিজেদের অগ্নি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে বার নির্বাচন।
এ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থীত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের জহিরুল-ভাষানী প্যাণেলের জয়লাভের মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ঐক্য দৃশ্যমাণ হবে বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। আর এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য ঐক্য পরিষদ প্রার্থীদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

তাদের মতে, ঐক্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের জহিরুল-ভাষানী প্যাণেল ১৭টি পদেই জয়লাভ করতে পারবে।

সূত্রে প্রকাশ, সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ কোন্দলে জর্জরিত ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। আর এই বিভেদের কারনে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতেও বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মাঝে বিভক্তি ছড়িয়ে পরে। আর এ সুযোগে সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কতৃত্ব হারাতে থাকে তারা। এমনকি আদালত পাড়ায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি নিয়েও পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরী হয় নিজেদের মধ্যে। আসন্ন বার নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়েও সৃষ্টি হয়েছিলো জটিলতার। সাংসদ শামীম ওসমানের পছন্দে আওয়ামীলীগ সমর্থীত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার উপর দেওয়ায় বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যাণেল গঠনে দেখা গেছে দায়সারা ভাব। তখন সবাই মিলে এড. জহিরুল হককে দাড় করিয়ে দেন সভাপতি পদে। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেয়া হয় এড. আবদুল হামিদ ভাষানীকে। আর আওয়ামীলীগ প্যাণেলের বিপরীতে জহিরুল-ভাষানী প্যাণেল ছিলো খুবই নড়বড়ে।

কিন্তু নির্বাচনী আগে এসে উল্টে যেতে থাকে সকল হিসেব নিকেশ। নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃতে ব্যাক্তিগত সকল দ্বন্দ সংঘাত ভুলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল নেতা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে চলে আসেন, আর তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ আদালতের সকল বিএনপি পন্থী আইনজীবীরাও উজ্জীবিত হয়ে মিলে মিশে একাকার হয়ে যান।

আর প্রচারনার শেষ দিকে এসে নারায়ণগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী এড. তৈমূর আলম খন্দকার সিনেট নির্বাচন শেষ করে নারায়ণগঞ্জ বার নির্বাচনের গন সংযোগে আসলে আদালত পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিনিয়র এই আইনজীবীর গ্রেফতারে সকল ভেদাভেদ ভুলে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা এক প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে যান আর আসন্ন বার নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তৈমূরের উপর পুলিশি নির্যাতনের জবাব দেওয়ার শপথ নেন। এখন ঐক্যবদ্ধ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র জন্য তাই অগ্নি পরীক্ষা হচ্ছে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তাদের সকল শক্তি বিনিয়োগ করে চলমান ঐক্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর তারা।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যাণেলের সভাপতি প্রার্থী এড. জহিরুল হক, সাধারন সম্পাদক প্রার্থী এড. আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রার্থী এড. রেজাউল করিম খান রেজা, সহ সভাপতি প্রার্থী এড. আজিজ আল মামুন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রার্থী এড. আব্দুস সামাদ মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী এড. নুরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. সুমন মিয়া, লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. সাইদুল ইসলাম সুমন, সমাজ কল্যান সম্পাদক প্রার্থী এড. শারমিন আক্তার, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রার্থী এড. নজরুল ইসলাম মাসুম এবং কার্যকরী সদস্য প্রার্থী এড. আল আমিন, এড. রফিকুল ইসলাম আনু, এড. আহসান হাবীব ভূইয়া, এড. ফজলুর রহমান ফাহিম ও এড. আমেনা আকতার শিল্পী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here