নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ঐক্যের শুরুতেই ফের দ্বন্দের বহি:প্রকাশ ঘটতে শুরু করেছে মহানগর বিএনপিতে। দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকায় তার মুক্তির দাবীতে আন্দোলন বেগবানে ব্যাক্তিস্বার্থকে ত্যাগ করে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন সম্প্রতি খালেদা জিয়ার দুই উপদেষ্টা।
যার মধ্যে একজন হচ্ছেন, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত ও সাবেক চীফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

তাদের মধ্যস্থতায় মহানগর বিএনপিতে ঐক্যের সূচনা হলেও পরক্ষণে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এ টি এম কামালকে উদ্দেশ্য করে সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের করা মন্তব্যে ফের দ্বন্দের বহি:প্রকাশ ঘটছে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

জানাগেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা জাকির খানের পক্ষে মহানগর মৎসজীবী দলের উদ্যোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেটের তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় কালাম-কামালের ব্যর্থতায় এক্সট্টা প্লেয়ার হিসেবে মাঠে নামার দাবী করে বক্তব্য রাখেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘একটি ফুটবল খেলার ৯০ মিনিট সময়ের মধ্যে কোন খেলোয়ার যদি আশানরূপ পারফরমেন্স দেখাতে না পারে, তখন অতিরিক্ত খোলোয়ারকে মাঠে নামানো হয়। তেমনিভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র মূল খেলোয়ার এড. আবুল কালাম ও এটিএম কামাল খেলায় জয়লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস দিতে না পারায় এক্সট্টা প্লেয়ার হিসেবে আমাকে মাঠে নামতে হয়েছে। তবে মাঠে যেমন নেমেছি, খেলায় সাফল্য লাভ করে তবেই মাঠ ছাড়বো।’

এরই প্রেক্ষিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন কোনরূপ মন্তব্য না করলেও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল দাবী করেছেন, ‘নেত্রী এখন কারাগারে। আর দলের এই ক্রান্তিকালে যেখানে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি আমরা, সেখানে সাখাওয়াত হোসেন খানের মত একজন বিচক্ষণ ব্যাক্তি বিদ্রুপ মন্তব্য করে উল্টো দ্বন্দের বহি:প্রকাশ ঘটাচ্ছেন।’

এটিএম কামাল আরো বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেন তো নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি হচ্ছেন অতিরিক্ত খেলোয়াড়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কেবলমাত্র দল প্রধান নির্দেশ দিলেই অতিরিক্ত খেলোয়াররা মাঠে নামতে পারেন। বিনা অনুমতিতে নামাটা হলো দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের সামিল।’

তবে এই সাখাওয়াত হোসেন খান সাম্প্রতিক সময়ে যখন মহানগর বিএনপির ব্যানারে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রে অভিযোগ করেছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালসহ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।

কিন্তু এরপর কামাল ও সাখাওয়াতের মধ্যে ফের ঐক্যের সূচনা এবং সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে পুনরায় কালাম-কামালের সাথে ঐক্যের বন্ধন পরিলক্ষিত হলেও সম্প্রতি তাতে ফের ফাঁটল ধরেছে বলে জানান একাধিক শীর্ষ নেতা।

যার প্রভাব দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবীতে চলমান ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কর্মসূচীতে পড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাবেক এমপি এড. আবুল কালামের পাশাপাশি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠঘাট চষে বেড়াতে শুরু করার পরপরই উভয়ের মধ্যে দ্বন্দের সূত্রপাত ঘটে। ধীরে ধীরে ঘটে যার বহি:প্রকাশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here