নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ঐক্য গড়ার কারিগর সংকটে ভুগছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ বলে দাবী করেছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা। যেই কারনে, নেতারা মুখে ঐক্যের আহবান জানালেও বাস্তবে নেতায় নেতায় দ্বন্দের কারনে ক্ষমতাসীন দলে সহসাই ঐক্য গড়ে উঠছে না।
উপরন্তু আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঐক্যের পরিবর্তে আওয়ামীলীগে এখন বিভাজনের মাত্রাই বেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এমনটাই যদি চলতে থাকে তাহলে আগামীতে ‘নৌকার’ বিজয় কষ্টদায়ক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাই বিভেদ ভুলিয়ে শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে নেতাদের মধ্যে ঐক্যের সূচনা করতে পারেন, এমন একজন কারিগর প্রয়োজন বলে দাবী করেছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, নেতায় নেতায় দ্বন্দের কারনে অনুগামী হয়ে এখন তারাও বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। যার প্রভাব নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনেই পড়েছে।

জানাগেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানের সাথে বিরোধ চলে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর মাঝে। গত বছর অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনের পূর্বে খোদ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা উভয়কেই গণভবনে তলব করে মিলিয়ে দিলেও বাস্তবে এখনো পর্যন্ত উভয়ের মাঝে ঐক্য হওয়ার কোন লক্ষ পরিলক্ষিত হয়নি।

সর্বশেষ গত মাসের ১২ আগষ্ট নগরীতে অনুষ্ঠিত শোক দিবসের সর্ববৃৃহৎ র‌্যালীতে মেয়র আইভীর উপস্থিতির মাধ্যমে শামীম ওসমান নিজেদের মধ্যে কোন দ্বন্দ না থাকার প্রমাণ দেখিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেও শেষতক আইভীর অনুপস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়নি। ফলে আইভী ও শামীম ওসমানের মাঝে যে দীর্ঘ বছরের দ্বন্দ চলে আসছিল তা নেতাকর্মীদের মাঝে আরো স্পষ্ট হয়ে যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের পরিবর্তে দল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনকে মনোনয়ন দেয়ার পর থেকেই উভয়ের মাঝে মনস্তাত্বিক দ্বন্দের সূত্রপাত ঘটে।

এরপর দলীয় ‘সাংগঠনিক’ সীমানা নির্ধারন নিয়েও জেলা আওয়ামীলীগের সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। যদিও পরবর্তীতে গত ৩০ জুলাই জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনীতে নারায়ণগঞ্জে এসে সাংগঠনিক সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি করে দিয়ে যান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপুমনি এমপি। কিন্তু তারপরেও জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের মাঝে গড়ে উঠেনি একতা।

তন্মধ্যে একটি লিফলেট বিলি করাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। তবে এই ঘটনায় শামীম ওসমানের মধ্যস্থতায় বাদল ও খোকনের মধ্যে প্রকাশ্য ঐক্য হলেও বাস্তবে তা দেখতে পায়নি নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ গত জুলাই মাসে মহানগর যুব মহিলালীগের একটি পাল্টা কমিটি অনুমোদন কে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে সরাসরি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা। যা নিয়ে এখন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা।

এছাড়াও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ বলয় গড়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই রূপগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর বীর প্রতিকের সাথে আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে আন্ডা রফিক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন আড়াইহাজারে বর্তমান সাংসদ আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু, সোনারগাঁয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত নৌকা প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক কালামের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানাযায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here