নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রায় এক মাস যাবত ওসি না থাকায় অভিবাভকহীন অবস্থায় চলছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা। আর এই সুযোগটাকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা এবং অত্র থানায় কর্মরত কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাগন- এমনটাই জানা গেছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে।

সূত্রে প্রকাশ, ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মীর শাহিন শাহ পারভেজকে তার দায়িত্বে অবহেলার কারনে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। আর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অত্র থানার দায়িত্বরত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাককে।

সূত্র থেকে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিহীন থাকার কারনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার বাণিজ্য রয়েছে এখন তুঙ্গে। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে এসব অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় এনে রাতভর অর্থ বাণিজ্যে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন। মাদকের পরিমান কমিয়ে ৫৪ ধারায় অথবা ৩৪ ধারায় চালান করা হবে কোর্টে এমন প্রলোভন দেখিয়ে গ্রেফতারকৃতদের আতœীয় পরিজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার দর কসাকসি করেন তারা। দরকষাকষির বনিবনা না হলে গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তির উপর চলে লাঠিপেটা। তাছাড়া কয়েকজন আসামীকে এক সঙ্গে গ্রেফতার করলে এদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে মাদক পাওয়া গেলে বাকি দুই এক জনের কাছে কোন কিছু না পেলেও তাদেরকেও ওইসব মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অর্থ বাণিজ্যের পর আদালতে পাঠানো হয়।

আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের রয়েছে একাধিক সোর্স। যারা কিনা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের খুব কাছের লোক। এসব সোর্সরা অক্রোশ মূলক ভাবে সদর থানার বিভিন্ন এলাকার নিরহ লোকদের ঘরের ভেতর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতর, মুদি দোকান, বিরানীর দোকান, পান দোকানে মাদক আগে থেকে রেখে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছেন। পরবর্তীতে থানায় এনে গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তিদের বিষয়ে তাদের আতœীয় স্বজনকে তাদের মোবাইলে খবর দিয়ে থানায় এনে অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে দরকসাকসি করছেন। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের এহেন কর্মকান্ডের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নগরীর অনেক সাধারন নিরহ মানুষ।

সচেতন নারায়ণগঞ্জ বাসী মনে করেন, জনগনের জান মালের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে দিয়েছেন। রক্ষক যদি কখনো ভক্ষেকের ভূমিকায় অবতীর্ন হয় তাহলে সে রাজ্যে কিছুই থাকে না। তাদের একটাই দাবি এই সমাজের মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির শত্র“। তাদেরকে গ্রেফতার করে কোন অর্থ নয়, যেন সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি সমাজের নিরহ ব্যাক্তিরা যেন পুলিশ দ্বারা কোন প্রকার হয়রানি না হয়। তাহলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরো বেশী উজ্জল হবে গোটা দেশ ও জাতির কাছে।

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here