নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এর আগে কোন সভায় তাঁকে এমন উত্তেজিত হতে দেখা যায়নি। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে থাকা ওয়াসার ওই নির্বাহী প্রকৌশলীকে আগামী রোববারের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওতাধীন সিটি করপোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড এবং ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় যেখানেই ওয়াসার কার্যক্রম রয়েছে সেই সকল এলাকার বর্তমান পরিস্থিতির সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে আগামী মার্চ মাসের মধ্য সেই সমস্ত এলাকার সকল সমস্যা সমাধানের জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন। যাতে করে আসন্ন রমজান মাসে কোন এলাকার মানুষের পানির সমস্যা পোহাতে না হয়।

বৃহস্পতিবার ১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লাঙ্গলবন্দ ¯œান উৎসবের প্রস্তুতি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় নারায়ণগঞ্জ ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী অংশ নেন। ¯œান উৎসবের প্রস্তুতি সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হলে ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রৌকশলীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বন্দরের পানি সংকটের বিষয়টি উপস্থাপন করেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

এ সময় তিনি প্রশ্ন করেন কেন বন্দর এলাকার মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর কেনই বা এতোদিনে সমস্যার সমাধান করা হলো না। কেন বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়নি। আর সমস্যা সমাধানে কত সময় লাগতে পারে।

এ সময় ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তরে বলেন, আমার কাজের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমি বিষয়টি আমার উপরের মহলকে অবহিত করেছি। কিন্তু সেখান থেকে কোন সমাধান পাইনি। পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান তার কাছে জানতে চান ওয়াসা কোন মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন।

প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তরে জানান এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন। তখন এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আপনার জানা উচিত আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং আপনার দপ্তরটি এই কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি আমাকে জানানো উচিত ছিল। আপনি যখন উপরের মহলকে অবহিত করেছেন তখন আমাকে এবং জেলা প্রশাসককে অনুলিপি প্রদান করা উচিত ছিল। বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। আমি এই সরকারের এমপি জনগনের প্রতিনিধি। সরকারী সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যদি আমার এলাকার মানুষ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে খাবার পানির কষ্ট পাবে এটা একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি কখনই মেনে নিবো না। যদি জনগনকে সেবা প্রদানের জন্য কাজ করতে পারেন তাহলে নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবেন নয়তো নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে যাবেন। আমরা ভাল কোন কর্মকর্তা নিয়ে আসবো। কারণ জনগনকে ন্যায্য অধিকারের সুযোগ সুবিধা দিতে না পারলে আমার নিজেরও সংসদ সদস্য পদে থাকা উচিত না। আগামী রোববারে মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন সকল এলাকার রিপোর্ট জমা দিবেন। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে আমার এলাকার কোথাও পাম্প নষ্ট রাস্তায় লিকেজ সহ কোন সমস্যা থাকতে পারবে না। রোববার রিপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দরকার হলে আমরা জেলা প্রশাসককে সাথে নিয়ে মন্ত্রনালয় যাবো।

সেই সাথে তিনি বন্দর এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পর সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট ছিল। তখন স্থানীয় কাউন্সিলর আমার কাছে আবেদন করে ছিলেন। আমি নিজস্ব উদ্যোগে ওই এলাকায় ৪টি ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে সেখানে কোন পানির সমস্যা নেই। কিন্তু ২২নং ওয়ার্ড এলাকার কাউন্সিলর আমাকে বিষয়টি অবহিত বা কোন প্রকার আবেদন করেননি। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ রাখবো যদি ওয়াসার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সময় সাপেক্ষ হয় তাহলে ওই সকল এলাকায় আমি নিজস্ব উদ্যোগে পানির পাম্প বসানোর ব্যবস্থা করে দিবো। কিন্তু এরজন্য আমাকে জায়গা দিতে হবে। যদি এলাকাবাসী ও কোন মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জায়গা দেন অথবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন জায়গা দেওয়া হয় তাহলে আমি সেখানে পানির পাম্প বসানোর ব্যবস্থা করে দিবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here