নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের প্রাণ বলা হতো শীতলক্ষ্যা নদীকে কিন্তু দখল আর দূষণের কারনে রূপ যৌবন হারিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী এখন মৃতপ্রায়। যে শীতলক্ষ্যার পানি পান করে জীবন যাপণ করতো এর দুপাশের মানুষজন, সেই শীতলক্ষ্যার পানির সামনে যাওয়া যায়না এখন দূর্গন্ধে। আশেপাশের মিলকারখানার দূষিত বর্জে শীতলক্ষ্যার পানি এখন রীতিমত বিষাক্ত। তার সাথে এখন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে কচুরিপানা। নদীর দুইপাশে কচুরিপানা যেনো জাল বিছিয়ে রেখেছে আর এ জাল ভেদ করে ট্রলার আর নৌকা চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মাঝিদের।

জানা যায়, নদীর দু‘পাড়ে জেলেরা মাছ শিকারের জন্য বাঁশ-মূলি দিয়ে যে ঘোর বা চাক তৈরি করে রাখে, সেই ঘোরের বাঁশ-মূলির মধ্যে কচুরিপানাগুলে আটকে থাকে দিনের পর দিন। এই আটকে থাকা অবস্থায় কচুরিপানাগুলে বংশবৃদ্ধি করে থাকে প্রতিনিয়ত, যা একটা কচুরিপানা এক রাতে সাতটি কচুরিপানা জন্ম দেয়। এভাবে বাড়তে থাকে কচুরিপানা যা একসময় পুরো নদীটিকেই আয়ত্তে নিয়ে নেয়, আবার বিভিন্ন খাল-বিল-ডোবা-নালা হতে খাল সংলগ্ন এলাকাবাসি এই খালের কচুরিপানাগুলো ঠেলে-ঠেলে নদীতে ভাসিয়ে দেয়, যার কারণে দীর্ঘ অনেদিন যাবৎ শীতলক্ষা নদীর দুপাড়ের মানুষ পারাপার হওয়ার ঘাটগুলে’ই অকেজো হয়ে পরেছে।

যান্ত্রিক চালিত একটা ট্রলার’ই পারাপার হতে হিমশিম খাচ্ছে এই কচুরিপানার জন্য। আর খেটে খাওয়া দিনমজুর নৌকার মাঝিদের অবস্থাতো আরো সংকটাপন্ন। এই কচুরিপানার আক্রমণের আগে একজন মাঝির দৈনিক আয় হতো তিনশ থেকে চারশ টাকা আরাম আয়সে, এখন কচুরিপানা ঠেলে রোজগার আগের মত, কিন্তু জীবন শেষ হয়ে যায় এপার থেকে ওপারে যেত’ই। বড় বড় তেলের জাহাজ, বালুবাহী ট্রলারকেও ধীর গতীতে যেতে দেখা যায়। সময় সময় এই কচুরিপানা ট্রলারের পাখায় আটকে যায়, এই আটকে যাওয়ার কারণে নদীর মাঝপথে ট্রলারের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, তখন যাত্রীদের পরতে হয় বিড়ম্বনায়। কচুরিপানার এত ভয়াবহ আক্রমণ আগে কখনই কেউ দেখেনি এই শীতলক্ষ্যা নদীতে। কচুরিপানায় যেন জিম্মি করে রেখেছে এই শীতলক্ষ্যা নদীটিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here