নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সব দলের প্রার্থীদের সহনশীল আচরনের কারনে প্রথমদিকে অনেকটাই শান্ত ছিল নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী পরিবেশ। যার ফলে সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন সম্পন্নের চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার আশায়ই এগিয়ে যেতে শুরু করেছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো: রাব্বী মিয়া এবং জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মো: হারুন অর রশিদ।
কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৫টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৪টিতে নির্বাচনী সহিংসতার মত ঘটনা ঘটে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ইদানিং জঙ্গিদের আনাগোনা বৃদ্ধিসহ এখানে অর্ধশতাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গড়ার অভিযোগ খোদ সরকার দলীয় আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী এমপি করায়, স্ষ্ঠুু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে রীতিমত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছেন এবার ডিসি এসপি বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানাগেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দীতাকারী ৩৫ প্রার্থীর সহনশীল আচরনের ফলে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। মনোনয়ন পত্র দাখিল থেকে শুরু করে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া পর্যন্ত প্রার্থী সমর্থকরা ব্যাপক শোডাউন করে জেলা রির্টার্নিং অফিসার কার্যালয়ে আসলেও কোথাও কোন দলের নেতাকর্মীদের সাথে বিবাদ বা সংঘাত বাঁধেনি।

যার ফলে নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্নের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো: রাব্বী মিয়া এবং নবাগত জেলা পুলিশ সুপার মো: হারুন আর রশিদ। নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের আচরনবিধি পর্যবেক্ষনে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করলেও এখনো অবদি কোথাও কাউকে জেলা জরিমানা করার মত ঘটনা ঘটেনি।

তাই স্ষ্ঠুু নির্বাচন পরিচালনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই প্ল্যান মাফিক এগিয়ে যাচ্ছিলেন জেলার প্রশাসনিক সর্বোচ্চ এই দুই কর্মকর্তা।

কিন্তু বিধি বাম! গত ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারনায় নেমেই একাধিক সংসদীয় আসনে তুচ্ছ বিষয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থী সমর্থকরা।

গত ৬ দিনে ঘটে যাওয়া, নারায়ণগঞ্জ-১ (সদর-বন্দর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরামের নির্বাচনী প্রচারনা সামগ্রী ভাংচুর, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদর গাড়ী বহরে পরপর তিন দিন হামলাসহ বিএনপি ও আওয়ামীলীগের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হওয়া, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামানের নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১৭ জন আহতসহ উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের বাড়ীঘরে ভাংচুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পোস্টার ছিড়ে ফেলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতেই তাঁর উপড় ছাত্রলীগ নেতার অতর্কিত হামলা, বিজয় দিবসের দিন দুপুরে আলীরটেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরামের উঠান বৈঠক স্থানীয় ইউপি চেয়ার‌্যান আলহাজ¦ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পন্ড করে দেয়াসহ একাধিক ঘটনায় সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে।

পাশাপাশি, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত মহাজোটের প্রার্থী প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে জঙ্গি মতবাদের প্রার্থী মন্তব্য করে নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ইদানিং রাতের আঁধারে জঙ্গিদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়াসহ জঙ্গিদের অর্ধশতাধিক ঘাঁটি গড়ে তোলার অভিযোগ করে প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করায় রীতিমত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছেন ডিসি এসপি।

কারন, গত ১২ ডিসেম্বর ফতুল্লার এনায়েতনগরে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী শামীম ওসমান প্রশাসনকে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করে বলেছিলেন, এইবারের নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জঙ্গীরা কি করবে আমি জানি। নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জঙ্গী মতবাদের প্রার্থী (জমিয়তে উলামায়ে জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী) কে মনোনয়ন দিয়েছে। সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে ইতোমধ্যে রাজধানী থেকে জামাত শিবিরের অর্ধশত জঙ্গি নারায়ণগঞ্জে এসে ঘাঁটি করছে। নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে তারা অবস্থান নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে তারা জঙ্গি কানেকশনে কাজ করছে। তাই প্রশাসন কে বলছি, গোফে তাও দিয়ে বসে থাকবেন না। আপনারা যদি এই জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেন, না পারেন, বলেন। তাহলে জনগণকে নিয়েই এই জঙ্গীদের প্রতিহত করবো। আর ছাড় দেওয়া হবে না। জনগনকে সাথে নিয়ে জঙ্গীদের প্রতিরোধ করার সেই ক্ষমতা আমাদের আছে।

যদিও শামীম ওসমানের এমন হুঁশিয়ারীর একদিন পরেই বিশেষ অভিযানে নেমে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পৃথক স্থান থেকে জামায়াত শিবিরের প্রায় দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন বানচালের চেষ্টাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার রাব্বী মিয়া ও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।

কিন্তু তারপরেও নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে পারেন ডিসি এসপি, সেটাই হচ্ছে এখন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here