নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: স্বামীর কাছে আড়াই বছরের শিশু কণ্যাকে চাইতে গিয়ে উল্টো মানব পাচারকারী মামলার আসামী হলেন এক অভাগা মা। আর যৌতুক লোভী স্বামীকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মিজান।
শনিবার (৩ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগই করেন স্বামীর হাতে নির্যাতিত সন্তান হারা অভাগা মা ফতুল্লা পিলকুনী এলাকার মো: মজনু বিল্লাহর মেয়ে ফয়জুন নেছা মিথিলা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মিথিলা বলেন, ‘২০১২ সালের ২৩ মার্চ ভালবেসে বন্দর কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিন নামা রেজিষ্ট্রিমূলে ঢাকা কদমতলী মেরাজনগর বি ব্লক, রোড নং-২, বার্ড় নং-৩১ এর ভাড়াটিয়া মান্নান মজুমদারের পুত্র হুছাইন মজুমদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ের ছয় মাস পর পরিবারের স্বজনদের বুঝালে তারা আমাকে শ^শুড়ালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেয়।’

মিথিলা বলেন, ‘আমার স্বামী ছোটখাট কয়েলের ব্যবসা করতো। ২০১৪ সালে মাঝামাঝি সময়ে সে ব্যবসা করার জন্য টাকা এনে দিতে বলে। এরপর আমি আমার বাবার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ও সোস্যাল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে ৩ লাখ টাকা এনে দিই। তারপর ব্যবসা প্রসারের জন্য আমার স্বামী খালুর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। তারপর বাবার মাধ্যমে খালুর কাছ থেকে আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা এনে দিই। ’

‘২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে একটি হামপাতালে আমি কণ্যা সন্তান প্রসব করি। নাম রাখি হুমাইয়া আলভী। এরপর থেকেই আমার ভাসুর আজম, দেবর জসীম অঅমার স্বামীর কাছে টাকার জন্য চাপ দেয়। পরে এই উছিলায় আমার স্বামী আমার উপড় অমানবিক নির্যাতন চালায় টাকার জন্য। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর ফালতু বিষয়ে ঝগড়া করে আমার মেয়েকে রেখে দিয়ে আমাকে বাড়ী থেকে বের কওে দেয় শ^শুরবাড়ীর লোকজন। যদি আমি ৫ লাখ টাকা নিয়ে যেতে পারি তবেই শ^শুরবাড়ীর দরজা আমার জন্য খোলা হবে বলে জানায়।’

‘এরপর আমার স্বামীর বিচার ও মেয়েকে ফিরে পেতে মাতুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুবিচার না পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশের কাছে যাই। কিন্তু পুলিশও আমার মেয়েকে উদ্বার করে দিতে পারেনি।’

মিথিলা অভিযোগ করেন, ‘চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ডিসি ও এসপি বরাবর দরখাস্ত দিয়েছি। এখন আমি সন্তানহারা দিশেহারা মা। তার যন্ত্রনা কেউ বুঝার নাই। উল্টো আমার বাবা, চাচা ও আমার বিরুদ্ধে নারী পাচারকারী মিথা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। নারী ও শিশু কোর্টের পেশকার নবী উল্লাহ যিনি আমার স্বামীর দু:সম্পর্কেও আত্মীয় হওয়ার সুবাধে তার যোগসাজসে এই মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করা হচ্ছে। এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা এস আই মিজান তদন্তে গিয়ে কিছু না পেয়ে রিপোর্ট না দিয়ে থানায় মামলা নিয়ে তা আবার তদন্তের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করেছেন। আমি তার পূর্বেই স্বামী বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেছি কিন্তু কোন সুবিচার পাই নাই।’

তাই শিশু কণ্যাকে নিজের কোলে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের উপর পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভাগা মা মিথিলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here