নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদকে বয়কটের ঘোষনা দেয়া নেতাদের মধ্যে কথা রেখেছেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, কিন্তু সময়ের ¯্রােতে সে ঘোষনা তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছেন অন্যরা।

গত ২ নভেম্বর সেই বিতর্কিত আজাদ বিশ^াসের সভাপতিত্বেই জেলা বিএনপি’র সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা, তবে আসেননি রাজীব।

আর তাই জেলা বিএনপি’র নেতাদের মুখের কথার সাথে তাদের কার্যক্রমে মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পরছে তৃণমূল। দলের দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে এ ধরনের দাযিত্বহীন আচরন তৃণমূল তাদের কাছ থেকে আশা করে না। সেইসাথে রাজীবের কমিন্টমেন্টের প্রতিও আস্থা বেড়েছে তাদের।

ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সাইনবোর্ড হিসেবে বিএনপিকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেন আর তা পুরোটাই ওপেন সিক্রেট। এ দৃশ্য এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর গা সওয়া হয়ে গেছে। একজন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আওয়ামীলীগের সমাবেশে সরকার দলীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতার কর্মী হিসেবে দাবী করার ঘটনা দেশের ইতিহাসে আর কোথাও দেখা না গেলেও এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসের সৌজন্যে নারায়ণগঞ্জবাসী দুচোখ ভরে তা উপভোগ করতে পেরেছে! এছাড়াও আজাদ বিএনপিকে যতটা সময় দেন, তারচেয়ে বহুগুণ বেশী ব্যস্ত থাকেন সরকারী দলের তোষামদিতে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল রীতিমত অতিষ্ট। ফলে মাঝে মাঝে অপ্রিতিকর ঘটনাও ঘটছে, তৃণমূলের হাতে লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে তাকে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায় থেকে কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজাদ বিশ^াসের অশরীরী ক্ষমতায় স্তব্ধ তৃণমূল।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসের বিভিন্ন বিতর্কিত আচরনের পর তাৎক্ষণিক লোক দেখানো বড় বড় বুলি ছাড়লেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে তা বেমালুম ভুলে যান নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতৃস্থানীয়রা।

এই যেমন শামীম ওসমানের কর্মী দাবী করার পর আজাদের সমালোচনায় মূখর হয়ে উঠেছিলো পুরো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছিলেন, বিএনপি’র মতো একটি মহাসমুদ্রে আজাদ বিশ^াসের মতো খড়কুটো না থাকলেও কিছু যায় আসেনা। সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জাহিদ হাসান রোজেল ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন শিকদার আজাদ বিশ^াসকে বয়কটের ঘোষনা দিয়েছিলেন।

কিন্তু বয়কটের সপ্তাহ না পেরুতেই একমাত্র রাজীব ছাড়া বাকীরা সবাই সে বক্তব্য গুলে খেয়ে ফেলেন এবং সেই আজাদ বিশ^াসের সভাপতিত্বেই জেলা বিএনপি’র সমাবেশে এসব নেতারাই হাসিমূখে পোজ দিয়ে গলা ছেড়ে বক্তব্য ঝাড়েন!

আর এসব দেখে দেখে দিনকে দিন হতাশ হয়ে পরছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। সেই সাথে জেলার শীর্ষ পদে থেকে মিডিয়া কভারেজের লোভে গালভরা বুলি না আউরে বাস্তবতার সাথে মিল রেখে কথা বলার জন্য নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here