নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জবাসী যখন ঘরে বন্ধি তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও করেনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষ আস্থা অর্জন করেছে জেলা পুলিশের সদস্যরা। অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন জেলা পুলিশ। যদিও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করোনার প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরাই। জনসমাগম কমানোসহ বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিশ্চিত করা, করোনায় আক্রান্তে নিহতের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে বের করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাক্স, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণেও কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। বিশেষ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনায় আক্রান্তে নিহতের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে বের করে তাদের কোয়ারেন্টাইনের আওয়াতায় আনতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। তবে পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।

এসপি জায়েদুল আলম বলেন, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে যেতে হলে প্রয়োজনীয় রেইনকোর্ড ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। প্রতিটি থানায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও থানাগুলো ও পুলিশ লাইন্সে জীবানুণাশক স্প্রে করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ সদস্যদের জন্য ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার সরবারহ করা হচ্ছে। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জের শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা এলাকা। ফতুল্লার বিসিকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে। এছাড়াও জেলার সবচেয়ে ঘনবসতি ও বিশাল এলাকা নিয়ে ফতুল্লা থানা। করোনার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ফতুল্লা এলাকায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর পরিশ্রম করে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। পাড়া মহল্লায় মাইকিং, সচেতন মূলক লিফলেট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। এসব কাজের মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রনেও সমান তালে কাজ করছেন তারা। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেনেরে নেতৃত্বে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করছেন পুলিশ সদস্যরা। আসলাম হোসেন জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ করেছে পুলিশ বাহিনী। তাই যত ঝুঁকিই থাক না কেন আমরা ভয় পাই না। তবে ঝুঁকির কথা চিন্তা করে থানায় কোয়ারেন্টাইনের জন্য রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী ফতুল্লা থানা পুলিশ করেনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করাসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রনেও কাজ করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে কোয়ারেন্টাইনের জন্য রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের সচেতন করা, ঝুঁকিপূণ এলাকা লকডাউন করা, লিফলেট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছি। সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতেই আমরা কাজ করছি। সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকার একটি বাড়ির ৯ পরিবারের ২৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ করোনা ফোকাল পার্সন এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সেখানেও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।

এদিকে, এরই মধ্যে বন্দর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হওয়াতে রসূলবাগ এলাকার ১শ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। সেই লকডাউনেও প্রত্যক্ষ ভাবে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। তথ্য মতে, জীবনের ঝুঁকি জেনেও দায়িত্ব অবহেলা করছেন না জেলা পুলিশের সদস্যরা। এজন্য জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিতগ সময়ে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ক্ষুন্ন হওয়া ইমেজ এখন প্রশংসিত হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে পুলিশের প্রতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here