নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রায় তিন মাস হলো করোনা মহামারিতে দিশেহারা জনজীবন। ৬৬ দিনের লকডাউন শেষে গত ৩১ মে থেকে সরকারী ছুটি বাতিল হয়ে অফিস ও দোকানপাট খুললেও মানুষের মাঝে এখনও বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। এ সময়ে সরকারের পাশাপাশি অনেক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সামর্তবান মানুষ অসহায় সাধারণ মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারী দল আওয়ামীলীগের মতো বিএনপির নেতারাও এগিয়ে এসেছেন জনগনের সেবায়। এতো কিছুর মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়নি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে। করোনা ভাইরাসের ভয়েই হয়তোবা তারা এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন বলে মনে করছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। এদর মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, বিএনপির সাবেক এমপি রেজাউল করিম, আতাউর রহমান আঙ্গুর প্রমূখ।

জানা যায়, বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বাংলাদেশেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরছে সর্বত্র। স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে, ঘোষনা করা হয়েছিলো সাধারণ ছুটি। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছিলো সরকার, কয়েক দফা বেড়ে ৩০ মে পর্যন্ত ছিলো সেই ছুটি। সেই সাথে দেশের সকল মার্কেট, সুপার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ঘোষনা করেছিলো দোকান মালিক সমিতি, বন্ধ ছিলো গন পরিবহনও। তবে ৩১ মে থেকে সরকারী ছটি আর বাড়ানো হয়নি, খুলেছে সরকারী বেসরকারী অফিস, দোকানপাট, চালু হয়েছে গণপরিহন
সারাদেশের রাজনীতিবীদরা চেষ্টা করছেন করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে চলছে সাহায্য সহযোগিতা। সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। সকলকে সচেতন করছেন করোনার কবল থেকে মুক্তি পেতে সতর্ক থাকার জন্য। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকলকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে সরকার। আর যারা প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

করোনার প্রকোপ প্রতিরোধে লকডাউন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পরেছেন। সেসব অসহায় মানুষকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করছে সরকার, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সমাজের সামর্থবান ব্যক্তিবর্গ। নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে করোনার রেড জোন। এখানে দিনকে দিন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেইসাথে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তাই এখানকার মানুষকে গত প্রায় তিন মাস যাবত জোর করে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের অভাবী মানুষগুলো।
এসব অসহায় দুস্থ্য মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসাতো দুরের কথা উল্লেখিত নেতৃবৃন্দ একদিন সচেতনতা কার্যক্রমেও অংশ নেননি বলে অভিযোগ নারায়ণগঞ্জবাসীর। আর তাই ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন সুসময়ে তাদের সব সময় দেখা গেলেও করোনা সঙ্কটে কোথায় তারা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here