নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: স্মরণকালের ভয়াবহ তাপদাহে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের কর্মজীবী মানুষ সারাদিনের পরিশ্রম শেষে একটু বিশ্রামের আশায় তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরছেন। কিন্তু ঘরে ফিরে লোডশেডিংয়ের কবলে পরে দিশেহারা এখন তাদের জীবনও। প্রকৃতি সৃষ্ট দাবদাহ আর মনুষ্য সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের কারনে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে এখন নগর জীবন। সেই সাথে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায় দেখা দিয়েছে অমনোযোগিতা। সব কিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের খেটে খাওয়ার সাধারণ মানুষের জীবন এখন উষ্ঠাগত। আর এর থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ¯্রষ্টার কাছে বৃষ্টি আর সরকারের কাছে লোডশেডিং থেকে মুক্তি কামনা করছে ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জবাসী।

যদিও কোন ক্ষেত্রেই আশার বানী শোনাতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ডিপিডিসি।

ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, বিশ^ জুড়ে বায়ুমন্ডলে কার্বন নিঃসরণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার এবং বনভূমি কমে যাওয়া ও গ্রিন হাউসের প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন হয়ে তীব্র দাবদাহ দেখা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে। শ্রমজীবী মানুষকে এই প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে ছুটতে হচ্ছে জীবীকার সন্ধানে। বিশেষ করে রিক্সাচালক ও দিন মজুরদের অবস্থা বর্ণনা করার মতো নয়।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের বৃহত শিল্পাঞ্চল বিসিকসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদেরও জৈষ্ঠ্যের এই অসহ্য গরমকে উপেক্ষা করে দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করেই একটানা কাজ করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গরমের কারনে অনেক শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে পরছে। অসুস্থ্যতায় মিলছে না ছুটি। অনুপস্থিতির কারনে হচ্ছেন চাকুরীচ্যুত। এতো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চলছে নারায়ণগঞ্জের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন যাপণ।

প্রচন্ড গরমে সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত শরীরে একটুখানি প্রশান্তির আশায় ঘরে ফিরে পরতে হচ্ছে লোডশেডিং নামক বিড়ম্বনায়। এতে করে শরীর ও মন যাচ্ছে বিগড়ে এবং মেজাজ হয়ে যাচ্ছে রুক্ষ। গরমের সাথে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই লোডশেডিং।

দিনে যে কতবার বিদ্যুত যাচ্ছে তার হিসেব রাখা যাচ্ছে না। বরং বলা যায়, বিদ্যুত এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে। বিদ্যুতের অভাবে শিশু বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পরছে। জ¦র, ঠান্ডা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে না বিদ্যুতের অভাবে। ফলে প্রতিযোগিতার এই যুগে তারা পিছিয়ে পরছে।

মাত্রাতিরিক্ত গরম আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ খানপুরের বেসরকারী চাকুরীজীবী বিল্লাল হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, প্রচন্ড গরমের মধ্যে সারাদিন অফিস করে যখন ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরি, তখন দেখি কারেন্ট নাই। তখন মনটা চায় যেদিক দুচোখ যায় চলে যাই। সরকার মুখে বলছে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু আমরাতো তার কোন লক্ষণ দেখছি না।

বরং শহরের বিভিন্ন বিপণী বিতান ও বানিজ্যিক ভবনগুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত আলো ঝলমল করছে। ফুটপাতে কয়েক হাজার দোকানে অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে একটি কুচক্রি মহল। সেই সাথে অটো রিক্সার ব্যাটারী চার্জ করা হচ্ছে বিদ্যুত চুরি করে। কিন্তু এগুলোতে লোডশেডিং হচ্ছে না। অথচ আমরা যারা বৈধ লাইন নিয়ে বিল দিচ্ছি তারাই নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কবলে পরছি। এ যেন মগের মুল্লুকে বসবাস করছি আমরা।  

এব্যাপারে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, সম্প্রতি গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো আমরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here