নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রায় তিন মাস যাবত নিজেদের সাংগঠনিক সীমানার মধ্যে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ করলেও এখন কর্মী সংকটে ভুগছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি।
নেতাদের পাশাপাশি এখন কর্মীরাও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্ত হয়ে পড়ায় এখন দলীয় যেকোন কর্মসূচী পালন করতে গেলেই লোকবল সংকটের কারনে প্রতিনিয়ত পুলিশী বাঁধার মুখে পড়তে মহানগর বিএনপিকে বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

যার প্রমাণও মিলেছে সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর বিএনপির আয়োজিত একাধিক কর্মসূচী পালনকালে। যেখানে নেতারা তো বটেই, কর্মীদের উপস্থিতিও এতটাই অপ্রতুল থাকে যে, কর্মসূচীতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের তুলনায় পুলিশের সংখ্যাই বেশী থাকে। ফলে কখনো বাঁধার সম্মুখীন, কখনো বা পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেই কর্মসূচী পালন করতে হচ্ছে মহানগর বিএনপিকে।

যেমনটা দেখাগেছে, গত ৩ ডিসেম্বর। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে হাতেগোনা স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে আসার কারনেই পুলিশের বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছিল মহানগর বিএনপিকে।

কারন, তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে যতজন না নেতা উপস্থিত ছিলেন, তার চেয়ে বেশী ছিল পুলিশ। যার ফলে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে এসে পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় মহানগর বিএনপির নেতাদের।

আর তন্মধ্যে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল সদর মডেল থানার ওসি মীর শাহীন শাহ্ পারভেজের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলে অনুমতি নিলেও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে বার বার ব্যানার দিতে তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও টিপু ভয়ে ব্যানার দিতে দেরী করায় এবং সভাপতি এড. আবুল কালাম পুলিশী ঝামেলা এড়াতে সমাবেশের শেষ সময়ে এসে যোগদান করেই সমাবেশের সমাপনী ঘোষণা করতে হয়েছে।

অথচ, একই দিন একই স্থানে একই কর্মসূচী ব্যাপক শো ডাউনের মাধ্যমে পালন করেছিল জেলা বিএনপি। প্রথমে শহরের চাষাড়া থেকে শত শত নেতাকর্মী একজোট হয়ে সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দিতে দিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এসে জড়ো হয়। এরপর তারা সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন।

কিন্তু অন্যান্য সময়ের তুলনায় সেদিন জেলা বিএনপির প্রচুর সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকায় পুলিশ চাইলেও লোকবলের অভাবে তাদের মিছিল কিংবা সমাবেশে কোন প্রকার বাঁধা দিতে পারেনি। কারন সেদিন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা ছিল অনেক কম।

তারপর গত ১৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দ্রব্যমূল্যেও উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে আসায় আবারো পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যেই বিক্ষোভ কর্মসূচী সম্পন্ন করতে হয়েছে মহানগর বিএনপিকে। সমাবেশ স্থলের পিছন ভাবে মহানগর বিএনপির যতজন না নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন, তার চেয়ে বেশী সংখ্যক পুলিশ সদস্য প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে তাদের প্রেস ক্লাবের নীচেই ঘিরে রাখে।

আর মহানগর বিএনপিকে বরাবরই এই পুলিশী অবরুদ্ধ হয়ে দলীয় কর্মসূচী পালন করতে হচ্ছে শুধুমাত্র কর্মী বাহিনীর অভাবে বলে মন্তব্য করেন মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। তাই আগামীতে কোন কর্মসূচী পালনকালে যেন পুলিশের চেয়ে দলীয় নেতাকর্মীর সংখ্যা অতি নগন্য না হয়, সেজন্য মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের প্রতি দলের কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

অন্যথায় কখনো পুলিশী ঘেরাটোপ থেকে অবমুক্ত হয়ে রাজপথে কর্মসূচী পালন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন মহানগর বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ নেতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here