নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’। ঠিক যেন তেমনটাই হয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষণাকারী আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য কামাল মৃধার ক্ষেত্রে।
শামীম ওসমানের মত আওয়ামীলীগের কান্ডারী ও প্রভাবশালী এমপিকে ডিঙিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও এমপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া ২৫ টাকা নির্ধারনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সাথে উপহাস করেছেন। যা কিনা অনেকটাই ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’ দেয়ার সামিল বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ নেতা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত উৎসব পরিবহনের একাধিক বাস মালিক জানান, যেই কামাল মৃধাকে উৎসব পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার সময় লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অপরাধে বিতাড়িত করা হয়েছে, সেই প্রতারক মৃধা এখন এমপি হয়ে বাস ভাড়া কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যা নিতান্তই হাস্যকর।

তবে আদৌ কামাল মৃধা উৎসব পরিবহনের অর্থ আত্মসাত করেছিলেন কিনা, এব্যাপারে জানতে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

তবে শুধু বাস ভাড়াই নয়, কামাল মৃধা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নৌকার মাঝি হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছেন, তা শুধুই স্বপ্ন হিসেবে দেখে যাবেন তিনি। কিন্তু আদৌ নৌকার মাঝি হতে পারবেন না বলে দাবী করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) থেকে ‘নৌকার মাঝি চাই’ সংগঠনের ব্যানারে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার লক্ষ্যে গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কামাল মৃধা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবী করেন, দীর্ঘদিন তিনি দেশের বাইরে ছিলেন কিন্তুপালিয়ে যাননি, তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে দুই বার গুলি করা হয়েছে, স্ত্রী সন্তানের সামনে মেরে কোমড়ের পাজরের হাড় ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

কামাল মৃধা বলেছেন, আমি রাজনীতি করতে চাই কিন্তু জীবনের বিনিময়ে না। আমি বাঁচতে চাই। তাই তখন আমার পিতৃতুল্য রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু আনোয়ার ভাইয়ের নির্দেশে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলাম। আনোয়ার ভাই বলেছিলেন, বিএনপিতে গিয়ে আগে নিজেকে সেভ করো। আমি বিএনপিতে গিয়েছি কিন্তু আমার রক্তে মিশে আছে আওয়ামীলীগ আর তাই আবারো আওয়ামীলীগে ফিরে এসেছি। দীর্ঘদিন খাচায় আটকে রেখে বাঘকে যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে বাঘতো খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পরবেই। আমিও আমার গন্তব্য আমার ঠিকানা পেয়ে গেছি। আর সে গন্তব্যে পৌছাতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী হতে চাইছি। যারা খুনের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের মূল উৎপাটন করতে চাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমি কোটিপতি হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। জনগনের সেবা করার জন্য নির্বাচন করতে আগ্রহী। মনোনয়ন দেবে নেত্রী, আর আমি যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি তা নেত্রীকে জানাতে চাই। নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী জেলা। আর এ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এখান থেকেই দেশের সবচেয়ে বেশী রাজস্ব আসে। এ আসনের ৬ লাখ ৬৭ হাজার ভোটারের কাছে যাবো, ২২৩টা কর্মী সভা করবো। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগে আমার অবদান কম না। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অফিস আমিই তৈরী করেছি। জায়গা দখল থেকে শুরু করে অফিস নির্মাণ পর্যন্ত সকল কিছুতে আমি ছিলাম।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি পরিবার রয়েছে যারা ভয় দেখিয়ে টাকা উপার্জন করে। যত ভয় তত টাকা। এ পরিবারের আরেকটি কাজ হলো কাউন্টার মামলা করা। কিছুদিন আগে সরকারী তোলারাম কলেজে একজন সাংবাদিককে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সমগ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা তা দেখেছে। আর এটা করা হয়েছে সবার মাঝে ভয় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু আমি এমপি হলে সেটা আর হতে দিব না। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসা ভাড়া ২৫ টাকা নির্ধারনের পাশাপাশি মেট্রোরেল চালু করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here