নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের দিন ৮ ফেব্রুয়ারী ঘোষনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বক্ষেত্রে প্রতিরোধের ঢাক ঢোল পিটানো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রায়ে খালেদার কারাদন্ড ঘোষনার পরও ছিলো লাপাত্তা।
তন্মধ্যে কেউ কেউ খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে চোখের পানি ধরে রাখতে না পারার মত স্ট্যাটাস দিলেও কার্যত্ এটিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মায়াকান্না বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

খালেদা জিয়ার ৫ বছর জেল হলেও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে কোথাও কোন নেতাকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা মামলার ভয়ে গা ঢাকা দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রাজপথ ছিলো বিএনপি নেতাকর্মী শূণ্য। গত প্রায় এক সপ্তাহ জুড়ে প্রতিবাদ প্রতিরোধের বক্তব্যে গলা ফাটানো নেতাদের অনুপস্থিতিতে অসহায় কর্মীদের মাঝে বিরাজ করেছে চাপা অসন্তোষ। সেই সাথে ফেসবুকে বড় বড় বুলি ছেড়ে রাজপথে আসতে না পারলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ভাগ্যের কালো মেঘ আর কাটবে না বলে আশংকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল।

সূত্রে প্রকাশ, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিলো ৮ ফেব্রুয়ারী। রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই ‘আমার নেত্রী, আমার মা, বন্দি হতে দেবো না’ শ্লোগানে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গরম করে রেখেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা।

আর এই রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার দেখিয়ে গত তিনদিনে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ৮ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় একহাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

সূত্র জানায়, ৭ থানায় ৮ মামলার ভয়ে প্রতিরোধের ঘোষনা দিয়েও তা রাখতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দলীয় চেয়ারপার্সণকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে রাজপথে নামতে সাহস করেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতারা। আর নেতাদের অনুপস্থিতিতে কর্মীরা ছিলো দিশেহারা, তাই তাদেরকেও আর প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় দেখা যায়নি। সেই সাথে এভাবে পালিয়ে থাকার খোলস থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আর ঘুরে দাড়াতে পারবে না বলে আশংকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কামালের ছেলে কল রিসিভ করে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, এটিএম কামাল এখন এই নাম্বারটি ব্যবহার করছে না, কোন নাম্বার ব্যবহার করছে তাও তিনি জানেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here