নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন ইস্যুতে ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী হিসেবে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টিকে গণ্য করার পরিবর্তে খোদ নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরই এখন প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনের মধ্যে বিশেষ করে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এলাকার সমন্বয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আক্রোশমূলক বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়ছে বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

তাদের মতে, উক্ত আসনে আগামী নির্বাচনেও ‘নৌকা’ প্রত্যাশী আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান যেমন আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী এমপি, তেমনি তৃতীয়বারের মত মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশও একজন প্রভাবশালী নেতা।

তবে উভয়ের মধ্যে শামীম ওসমান মূল দল আওয়ামীলীগের কান্ডারী হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বিবেচিত হলেও প্রভাবশালী আরেক নেত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কাউসার আহম্মেদ পলাশের শ্রমিক রাজনীতিতে রয়েছে বেশী প্রভাব প্রতিপত্তি।

কিন্তু সম্প্রতি মনোনয়ন ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষ প্রভাবশালী এই দুই নেতা শামীম ওসমান ও কাউসার আহম্মেদ পলাশের মধ্যে মনস্তাত্বিক দ্বন্দের সৃষ্টি করতে চাইছে বলে দাবী করেছেন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা বলেন, মাস খানেক পূর্বে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নির্মানাধীন সেতুর পাইলিং কাজের উদ্বোধনীতে আসার পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংসদ শামীম ওসমানের জন্য অপেক্ষা করতে পথিমধ্যে পাগলায় অবস্থিত শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের বাসায় গিয়ে ক্ষণিকের জন্য অবস্থান করেন। তন্মধ্যে শামীম ওসমান পলাশের বাসায় পৌঁছানোর পর সকলেই চা চক্রে মিলিত হন। এরপরই পলাশের বাসায় হঠাৎ মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পলাশ অনুসারীরা তাদের নেতাকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তির দাবী করে প্রচারনা চালান।

তারপর জামতলায় বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সভায় পলাশের বাড়ীতে ওবায়দুল কাদেরের গমণের ফলে আসন্ন নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ‘নৌকার’ প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চেয়ে সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান অতিথি শামীম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এম শওকত আলী।

তখন শামীম ওসমান দাবী করে বলেন, ‘মনোনয়ন প্রদানের মালিক মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনে মনোনয়ন যে কেউই চাইতে পারেন। কিন্তু আমি শামীম ওসমান চাইলে আরো ৮/১০ জনের মনোনয়ন এনে দেয়ার ক্ষমতা রাখি।’

তবে শামীম ওসমানের এমন দাবীর প্রেক্ষিতে পলাশ কোন মন্তব্য না করলেও সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকসহ স্থানীয় তিনটি পত্রিকায় তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে এজন্য শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

কারন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে চারটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের পর গত ১১ এপ্রিল বিকেল ৩টায় নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান লং ভেহিক্যাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্যকালে পলাশ বলেছেন, ‘সূর্যের আলো যেমন কেউ আটকাতে পারে না, তেমনি আগামী নির্বাচনে আমার মনোনয়নও কেউ ঠেকাতে পারবেনা। বাস্তবতার নিরীখে একজন রাজনৈতিক কর্মীর চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত আসমান থেকে ফয়সালা হয়। নবম সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম, দল দেয়নি। তার জন্য দল ছেড়ে যাইনি। দল কবরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাই কবরীর জন্য নির্বাচনের প্রয়োজনে তখন হজ্ব থেকে অগ্রিম চলে এসে মাঠে নেমেছি। নমিনেশন না পেয়েও আওয়ামীলীগের হয়ে কবরীর জন্য নির্বাচনের মাঠে কাজ করেছিলাম। পরবর্তীতে বর্তমান এমপি শামীম ভাইয়ের সাথেও নানা কাজ করেছি।’

তিনি অনেকটা দাবী করে আরো বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নমিনেশন চাইবোই। আসমানে ফয়সালা হয়ে থাকলে আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলে কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

আর তাই আসন্ন নির্বাচনে কারো মনোনয়ন কেউ ঠেকাতে পারবেন কিনা, তা জানা না গেলেও শেষতক বঙ্গবন্ধু কণ্যা আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে উপযুক্ত ‘নৌকার’ প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here