নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয়তাবাদী দল আয়োজিত সমাবেশে লোক সমাগম ঘটাতে যেই প্রত্যাশা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা, তা পূরণে প্রস্তুত রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বলে জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
বহুদিন পর রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ভরসার স্থান হিসেবে সেই সমাবেশে প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

কারন, রাজধানীর পাশ^বর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকেই কেবল অধিক সংখ্যক লোক সমাগম সমাবেশে ঘটানো সম্ভব। তাই তো বড় আশা করেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সাধারন সম্পাদককে ঢাকায় তলব করে নির্দেশনা প্রদান করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

তিনি সমাবেশে লোক সমাগম ঘটাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টুকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।

শুধু মহাসচিবই নয়, গত ৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে এসে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজাহান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের সাথে সমাবেশে লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি মূলক সভা করেন।

তারা আশা নিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রয়োজনে সব সময় নারায়ণগঞ্জের মানুষ অগ্রনী ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও রাখবে ইনশাল্লাহ। আমি আশাকরি বিগত কর্মসূচী গুলোর মত ১২ নভেম্বরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচীস্থল’কে জনসমুদ্রে পরিনত করবেন নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা।’

অপরদিকে, একইদিন মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দের সাথেও প্রস্তুতি মূলক সভা করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের আশ^স্ত করেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তাই এখন খালেদা জিয়ার সমাবেশে জনশক্তির জানান দিতে এখন নানা ভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন শুরু করে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। সমাবেশে জেলা ও মহানগরের সকল ইউনিটসহ যুবদল, স্বেচ্ছা সেবকদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের থেকে ব্যাপক লোকের সমাগম করার টার্গেট নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যে জনসমর্থণ আছে, আমরা সেটা ১২ নভেম্বরের সমাবেশে প্রমাণ করবো। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে আমরা সমাবেশে যোগদান করবো।’

জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় লক্ষাধিক লোক সমবেত হবে। ইতিহাস হয়ে থাকবে নারায়ণগঞ্জ।’

মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, ‘আগামী ১২ নভেম্বরের সমাবেশে মহানগর বিএনপির প্রতিটি ইউনিট থেকে প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে যোগদান করা হবে।’

জানাগেছে, সামনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর তার পূর্বে বহুদিন পর একটি সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটিয়ে সরকারকে বিএনপির জনসমর্থন দেখানোটাও একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারন, সম্প্রতি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বলেছিলেন, ‘বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও তাদের জনসমর্থন বেশী আছে।’

তাই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটিয়ে কেন্দ্রের প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি ভাবেই প্রস্তুত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here