নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অভ্যন্তরীণ কোন্দল সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে রীতিমত বাজিমাত করেছে বিএনপি। কিন্তু অনেকটা অদৃশ্য ভাবেই তৃণমূলকে সুসংগঠিত করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ- এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
জানাগেছে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ। আর দীর্ঘ ১০ বছর যাবত ক্ষমতাহীন অবস্থায় মামলা হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে আছে বিএনপি। কিন্তু তারপরেও সেই বিধ্বস্ত বিএনপির কাছেই দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের দিক দিয়ে ধরাশায়ী হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

তাদের মতে, রাজধানীর পাশ^বর্তী জেলা হিসেবে রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সাংসদ শামীম ওসমানের কারনে একটু বেশীই ভূমিকা রেখেছে এই দলটি।

কিন্তু কার্যক্রম শুরু থেকে সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, বিএনপির তুলনায় সর্বক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে আওয়ামীলীগ। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ৩ লাখ, সেখানে ক্ষমতাসীন দল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে লক্ষাধিক।

অথচ, বিএনপির আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগই শুরু করেছিল নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী।

জানাগেছে, গত ১ জুলাই থেকে শুরু নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি তাদের সাংগঠনিক সীমানায় ১ লাখ নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু বিএনপির নেতাদের মধ্যে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম করা নিয়ে কোন্দলের সৃষ্টি হলেও তারা যে যেভাবে পারছেন নিজ আয়ত্ত্বে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

যার প্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, ফুতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু একজোট হয়ে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রোজেল হাসান, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ শাহ আলম, সাধারন সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, রূপগঞ্জে বিএনপি নেতা দিপু ভূইয়া, আড়াইহাজারে কন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান খসরু, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা আজাদ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে পৃথক ভাবে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।

অথচ, গত ৩০ জুলাই থেকে ৮০ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দল জেলা আওয়ামীলীগ কার্যক্রম শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত কোন ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালনায় দৃশ্যমান কর্মসূচী পরিলক্ষিত হয়নি। যেই কারনে রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় নতুন সদস্য কার্যক্রম চলছে অদৃশ্য ভাবে!

অপরদিকে, দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে মহানগর বিএনপিতে বিভাজনের সৃষ্টি হলেও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল একজোট হয়ে এবং মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান একক ভাবে দলীয় সদস্য সংগ্রহে এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন।

কারন, হাতে মাত্র অল্প কয়েকদিন সময় আছে। তন্মধ্যেই ২ লাখ নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা তাদের আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে পূরণ করতে হবে।

কিন্তু এখনো ২৭টি ওয়ার্ডে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগ। তন্মধ্যে দলটির সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ৪ লাখ আর সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা মাত্র ২৫ হাজার নতুন সদস্য করার অভিমত ব্যক্ত করায় এখন প্রকৃতপক্ষে মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কত হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হবে তা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। কিন্তু তার পূর্বেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বিএনপির দুই মাসব্যাপী সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here