নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন মশলার। এরইমধ্যে জিরা, এলাচিসহ বেশ কিছু মশলার দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
শুক্রবার (১১ আগষ্ট) সকালে মশলার পাইকারী বাজার নগরীর ডাইলপট্টী ও খুচরা বাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে সরেজমিন ঘুরে এমন তথ্যই জানাগেছে।

আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই উদযাপিত হবে মুসলমান সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই কোরবানীর ঈদকে ঘিরে মশলার চাহিদা বেশী থাকায় দামও আগে থেকেই বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবছর কোরবানীর ঈদের আগে বেড়ে যায় মসলার দাম। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানীর ঈদে মসলার চাহিদা বেশী থাকায় দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবী, মসলা আমদানীর শুল্ক বেশীসহ সব ধরনের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় মশলার দামও কিছুটা বেড়ে গেছে।
তারা জানান, মসলার দাম গত সপ্তাহে কিছুটা বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত সরবারহ থাকায় এবার দামে তেমন প্রভাব পড়বে না।

ডাইলপট্টীতে মসলার পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদে চাহিদার তুঙ্গে থাকে জিরা, এলাচি ও দারুচিনি। এরইমধ্যে এসব মসলার দাম বেশ বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতিকেজি জিরা ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫৫ থেকে ৩৯০ টাকায়, দারুচিনি ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা ও এলাচি কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ টাকা থেকে ১৬৮০ টাকায়।

এছাড়াও তেজপাতা ৯০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায়, সাদা গোল মরিচ ৯৮০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৬৮০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়, জয়ফল ৬৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকায়, যত্রিক ১৩৫০ টাকা থেকে ১৪৫০ টাকা, কিসমিস ২৬৫ টাকা থেকে ২৭৫ টাকা, আলু বোখারা ৪৬০ টাকা থেকে ৪৯০ টাকা, কাঠবাদাম ৬১০ টাকা থেকে ৭১০ টাকা, পোস্তাদানা ৭৮০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে, পাইকারী বাজারের মসলার দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। দ্বিগুবাবুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দারুচিনি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা ও এলাচি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায়, তেজপাতা ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১০০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায়।

মসলার দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ঈদুল আজহা তথা কোরবানীর ঈদের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। পাইকারী বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে হচ্ছে।

আর বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে চাল ও পেঁয়াজের বাজার এখনও অস্থির। মসলার দামও বাড়ছে। এরপরও চোখে পড়ছে না সরকারী কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা। এখনই পাইকারী বাজারে যদি মনিটরিং করা না হয়, তাহলে এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here