নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র ছয় জনপ্রতিনিধির সরকারী দলের ছায়াতলে থেকে নিজের আখের গোছানোর দ্বৈত চরিত্রে ক্ষোভ দানা বাঁধছে তৃণমূলে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ সরকারী দলের হামলা মামলায় দিশেহারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের চোখের সামনে সরকারী দলের দালালি করে এসব জনপ্রতিনিধিদের আয়েশী জীবন যাপন আর বিতর্কিত কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। আর তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারী দলের এসব গুপ্তচরদের মুখোশ উন্মোচন করে দলকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবী জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল।

তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর ও মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়িকা আয়েশা আকতার দিনা, এবং ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও সক্রিয় থাকেন সরকারী দলের তোষামোদিতে। বিএনপি’র রাজনীতি করেও নারায়ণগঞ্জে সরকারী দলের দুই এমপি’র ছায়াতলে থেকে দিব্যি রাজার হালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব জনপ্রতিনিধিরা। বিএনপি’র দলীয় কর্মসূচিতে দেখা না গেলেও সরকারী দলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সরকারের গুণগান গাওয়া এখন তাদের নিত্যনৈমেত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আর এসব সাইনবোর্ড স্বর্বস্ব সুবিধাবাদী নেতাদের একের পর এক বিতির্কিত আচরনে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে দলের। তাই সময় থাকতেই এদেরকে প্রতিরোধ করার দাবী ক্রমেই জোড়ালো হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস, সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর আয়েশা আকতার দিনা ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকেন না। এ নিয়ে দলের মধ্যে তাদের বদনাম দীর্ঘদিনের। বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখতে পাওয়া যায় তাদেরকে। এমনকি আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মসূচিতেও একই মঞ্চে উঠেন আজাদ বিশ^াস ও সেন্টু। যার ফলে বিএনপিতে এরা দালাল নামে অভিহিত হন। এ কারনে জেলা বিএনপি’র কর্মীসভায় লাঞ্ছিত হন আজাদ বিশ^াস। আর দলের নির্দেশ অমান্য করে ইউপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় বহিস্কার করা হয় মনিরুল আলম সেন্টুকে। পরে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সেই বহিস্তারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। অতি সম্প্রতি ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের এক জনসভায় সরকার দলীয় এক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আজাদ বিশ^াস ও সেন্টু এমপি শামীম ওসমানকে তাদের নেতা হিসেবে বক্তব্য দেন এবং সরকারের গুণকীত্তন করেন। আর সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীগের জনসভায় মিছিলসহ যোগ দেন দিনা। আর এতে করে ক্ষোভে ফেটে পরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। তাই দলের ভিতরে থেকে সরকারী দলের দালালী করা এসব জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।

অপরদিকে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার বিএনপি’র রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে তাদের দেখা মিলেনা। সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যখন মামলা হামলায় দিশেহারা, তখন এসব সেতারা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের গাড়ি বহরে ঘুরে বেড়ায়। আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাসি মুখের ছবি কিংবা সাংসদ সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দেয়া বক্তব্যের কারনে বারবার বিতর্কিত হয়েছেন মুকুল। মুকুলের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দেয়া হলেও প্রতিবাদ করেননি তিনি। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১২ নং ওয়ার্ডে সাংসদ সেলিম ওসমান শওকত হাশেম শকুর জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সেলিম ওসমানের যে কোন অনুষ্ঠানে শকুর উপস্থিতি এখন নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে। তেমনি ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকারকেও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে পাওয়া যায়না অথচ সাংসদ সেলিম ওসমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন নিয়মিত। তাই সরকারী দলের দালালী করা এসব বিএনপি নেতাদের বিষয়ে সময় থাকতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তৃণমূলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here