নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ক্ষমতাসীন দলের হয়েও বিরোধী দল বিএনপির মত ‘কষ্ট’ অনুধাবন করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের তৃণমূল কর্মীদের। তবে আরামেই ছিলেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা- এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের। যা ছিল ক্ষমসতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর।
কারন হিসেবে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ^ প্রামান্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে আগে থেকেই শহরের ২নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে আমাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু এখানে আসার পর জানতে পারলাম ঢাকায় সমাবেশে যাওয়ার জন্য কোন বাস ঠিক করতে পারেন নি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। পরবর্তীতে নেতারা ট্রাক এনে আমাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দিলেও তারা ঠিকই আসেন এসি গাড়ীতে বসে।’

তৃণমূল নেতৃবৃন্দ আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি নেতারা বাস ভাড়া না করতে পারতেন তাহলের আমাদের আগেই জানিয়ে দিতে পারতেন। তাতে করে আমরা যে যেভাবে পারতাম, ঢাকায় সমাবেশস্থলে গিয়ে সমবেত হতাম। কিন্তু তারা সেটা না করে আমাদের ট্রাকে করে সমাবেশস্থলে পাঠিয়ে তামাশার সৃষ্টি করেছে। এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের দেখে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কি বাস পাও নাই, ট্রাকে যেতে কেমন লাগছে? আমাগোও তো সমাবেশে যাওয়ার সময় তোমরা বাস বন্ধ কইরা দিছিলা। অহন নিজেরাই আমাগো কষ্ট ট্রাকে চইড়া বুঝলাতো?’

কেননা, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গত ১২ নভেম্বর যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছিল, সেদিন ভোর থেকেই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সকল গণপরিবহন চলাচল অঘোষিত ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ট্রেনও ছেড়ে যায় নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বিলম্বে। ফলে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের দূর্ভোগ পোহাতে হলেও সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েই সেদিনের সমাবেশে তারা যোগ দিয়ে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিনত করেন।

ঠিক যেমনটা গত ১৮ নভেম্বর করেছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তাই তো, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা সমাবেশে যাওয়ার প্রাক্কালে বাস না পেয়ে মালা প্রথম মন্তব্য পোস্ট করে বলেন, ‘নারায়নগঞ্জে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট হচ্ছে। কারন ৭ই মার্চের ভাষনের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিতে নারায়নগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ ঘোষণা দিয়েছিলো বিশাল ও বর্নাঢ্য মিছিল আনবে, কথাটি যাদের পছন্দ হয়নি তারা হয়তো এ কাজ করেছেন, কিন্তু আমরা অনেক কষ্ট করে নাগরিক আনন্দ সমাবেশে আসছি, আমাদের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে।’

আর সমাবেশ থেকে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পুনরায় মন্তব্য করেন, ‘৭ই মার্চের ভাষনকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রমান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনন্দ সমাবেশে নারায়নগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল প্রমান করে যানবাহনের কৃত্রিম ধর্মঘট তৈরি করে মহানগর আওয়ামীলীগের মিছিল বন্ধ করা যাবেনা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here