নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিগত ২০১৪ সালের দায়েরকৃত মামলার আসামী হয়ে জেলের ঘানি টানার রেশ কাটতে না কাটতেই ২০১৮ সালের আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি’ মামলার রায়কে ঘিরে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার রাজপথে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গড়ার মাধ্যমে নেত্রীর প্রতি আস্থা অর্জনের পূর্বেই ফের মামলার বেড়াজালে আটকে পড়লেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ৫টি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করেছে। শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত মামলাগুলো দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যেই দু’ডজনের বেশী নেতা গ্রেফতার হওয়ার পাশাপাশি মামলার আসামী বনে গেছেন প্রায় ৬শ’ জন।

গ্রেফতাকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, রূপগঞ্জ থানাধীন ঠাকুরবাড়িরটেক এলাকার বিএনপি নেতা মাসুদ মিয়া, পাচাইখাঁ এলাকার ইসরাফিল মিয়া, ভোলাব এলাকার জহির মিয়া, গুতিয়াবো এলাকার ইকবাল হোসেন ও মৈকুলী এলাকার নজরুল ইসলাম, সোনারগাঁ থানাধীন সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকার, পৌর বিএনপি নেতা আলমগীর, সোনারগাঁ থানা ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক, সোনারগাঁ থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে ইয়াসিন নোবেলের বড় ভাই সোহেল, দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল প্রধান, বিএনপি নেতা ইকবাল ভেন্ডার এবং বন্দর থানাধীন দুই বিএনপি কর্মী কামতাল এলাকার মো. আলী হোসেনের ছেলে মাছুম ও একরামপুর এলাকার মৃত হালিম মিয়ার ছেলে মান্নান।

আর নাশকতার চেষ্টা ও গাড়ী জ¦ালাও পোড়াও এর অভিযোগে জেলার ৫ থানায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইনে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় আসামী হয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি শাহ আলম, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় যুবদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু, নাসিক ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মো: ইকবাল হোসেন, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের পুত্রদ্বয় নাসিক ৫নং কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল ও তার ভাই সানবির, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জুয়েল প্রধানসহ প্রায় ৫শ’ নেতাকর্মী।

তবে নতুন করে ফের মামলার আসামী হলেও তাতে বিচলিত নন বিএনপির শীর্ষস্থানীয়সহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলে দাবী করেন অনেকে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা রাখতে যেকোন মূল্যেই আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের লক্ষ্যে আত্মগোপনে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সহ-সভাপতি শাহ আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান খসরু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ আজহারুল ইসলাম মান্নান, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা যুবদল সভাপতি মোশারফ হোসেন, মহানগর যুবদল আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

কারন, গত ৩০ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৭টার দিকে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন খালেদা জিয়া। এসময় তিনি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে ঢাকার রাজপথে নারায়ণগঞ্জের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থানের দিক নির্দেশনা দেন।

এরপর গত ৩ জানুয়ারী রাজধানীর লা মেরিডিয়িান হোটেলে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদের বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী তার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ-প্রতিবাদ গড়ে তুলতে ও ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। আমি যেখানেই থাকি না কেন আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। দলের নেতা ও এ দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।’

আর দেশের প্রয়োজনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে তিনি আরো বলেন, ‘একবার ক্ষমা করেছি। কিন্তু ক্ষমা বারবার করা যায় না। তাই দল ভাঙার যতো চেষ্টাই হোক কেউ ফাঁদে পা দেবেন না। যারা দলের প্রতি অনুগত থাকবেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা থাকবেন না তাদের আর ক্ষমা করা হবে না।’

তাই বিশেষ করে মামলা গ্রেফতার ভয়কে উপেক্ষা করে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দরা ৮ ফ্রেব্রুয়ারী নিজেদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার রাজপথে অবস্থানের লক্ষ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন আপ্রাণ চেষ্টা বলে সূত্রমতে জানাযায়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি আমাদের আস্থা জানাতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে ঢাকার রাজপথে দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছি। পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে রাজপথ থেকে দূরে রাখার যে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে তা কোনক্রমেই সফল হবে না। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ জানাতে গ্রেফতার ভয় উপেক্ষা করেই সকলে রাজপথে অবস্থান করবে।’

এরআগে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবৈধ দাবী করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী থেকে টানা তিন মাসব্যাপী জেলা জুড়ে জ¦ালাও পোড়াও ঘটনায় জেলার ৭টি থানায় দায়েরকৃত নাশকতার মামলায় আসামী হয়ে কারাভোগসহ অদ্যবধি আদালতে প্রতিনিয়ত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয়সহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সেই মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হতে না হতেই ফের নতুন করে নাশকতার আসামী বনে গেল বিএনপির শীর্ষস্থানীয়সহ তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় ৫শ’ নেতাকর্মী। যার প্রভাব চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির উপড় পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here