নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের মহাসড়ক দিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কোথাও যাত্রাকালে কিংবা কেন্দ্রীয় কোন সমাবেশে ব্যাপক শোডাউন করে নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করলেও খোদ এই নেত্রীর দুর্দিনে দুর্বার আন্দোলন গড়ার লক্ষ্যে এখন মাঠে নেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সম্ভাব্য এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন নেত্রীর কারামুক্তির দাবীতে দলীয় কর্মসূচী পালনে রাজপথে নিয়মিত সক্রিয় থাকলেও বেশীরভাগই রয়েছেন নিরুদ্দেশ- এমনটাই অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে জানতে চেয়েছেন, “নির্বাচনে ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ৯০০ থাকলেও নেত্রীর মুক্তির দাবীতে এখন তারা কোথায়? এখনতো ৫০ জনকেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না।”

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বঅচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশায় মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রায় ১৬ জন প্রার্থী।

যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে রয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় যুবদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিষ্টার পারভেজ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম মান্নান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

জানাগেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আর তার মুক্তির দাবীতে সেইদিন থেকে অদ্যবধি কেন্দ্র নানা কর্মসূচির ডাক দিলেও নারায়ণগঞ্জে সেই কর্মসূচি পালনে হাতেগোনা কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যতীত বেশীরভাগদেরই নিরুদ্দেশ থাকতে দেখা যায়।

তন্মধ্যে, পুলিশের মামলার আসামী হওয়া সত্ত্বেও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ রাজপথে কর্মসূচি পালন করলেও গত ১৯ মার্চ দুপুরে খোরশেদকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

আর ইদানীং ফটোসেশনের জন্য কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েই দ্রুত সমাপ্তি ঘোষণার মাধ্যমে গড় হাজিরা দিচ্ছেন এড. আবুল কালাম।
অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়ে প্রথম পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জমানকে রাজপথে কর্মসূচি পালনে নামতে দেখা গেলেও এখন তারাও হয়ে গেছেন নিরুদ্দেশ।

কিন্তু নাশকতার মামলায় কারামুক্ত হয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, মাজহারুল ইসলাম মান্নান, অধ্যাপক রেজাউল করিম, শিল্পপতি শাহ আলম আগাম জামিন নিলেও এখনো পর্যন্ত দলীয় কর্মসূচি পালনে মাঠে নামেনি তারা।
আর সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন গণস্বাক্ষরের মত সস্তা কর্মসূচির মাধ্যমে ফটোসেশন করলেও অন্য কোন কর্মসূচিতে মামলার ঝামেলা এড়াতে মাঠে নামেননি বলে জানান তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

তবে, আতাউর রহমান আঙ্গুর বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জে এসে যোগ দিলেও অনেকটা দায়সারা ভাব নিয়েই ফটোসেশনে আসেন বলে জানান তার ঘনিষ্টজনেরা। আর মাঠের পরিবর্তে ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছেন তারই ভাই বদরুজ্জামান খসরু।

কিন্তু শুরু থেকেই আন্দোলনে বেশ দায়িত্ব পালন করলেও সোনারগাঁ থানার একটি নাশকতার মামলায় আসামী হয়ে কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও আড়াইহাজার ও ফতুল্লা মডেল থানার আরো তিনটি মামলায় এখন কারাগারে বন্দি রয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ত্যাগী ও যোগ্যদেরই কেবল মনোনয়ন প্রদানের দাবী জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here