নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দীর্ঘ দেড় বছর পর রাজধানীতে সমাবেশ করার সুযোগ পেয়েছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তাই তো পথিমধ্যে নানা প্রতিবন্ধকতা স্বত্তেও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নেত্রীর সমাবেশে স্বত:স্ফূর্তভাবে যোগদান করেছেন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনে ‘ধানের শীষ’ মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য এমপি পদপ্রার্থীরা।
আর আগামী সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন যখন নেতাকর্মীদের কাছে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে উত্তর জানতে চান, তখন সমস্বরে ‘না’ সূচক উত্তর দেন সমাবেশ স্থলে উপস্থি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রবিবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে আগামী জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

ইভিএম বন্ধ করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে তাদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সংসদ নির্বাচনের দাবী জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আপনি অন্যায় কথা শুনতে পারেন না। এদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে, ইভিএম বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী না দিলে হাসিনার গুন্ডা বাহিনী পুরো কেন্দ্র দখল করে মানুষের উপর অত্যাচার চালাবে। ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা থাকে। পুলিশকে পাহারা দিতে বাধ্য করা হয়। তারা এক দিকে সিল মারবে, আর ক্ষমতায় থাকবে। এজন্য নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং তাদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে, যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে।’

এরপর বক্তব্যের একপর্যায়ে একমাত্র নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে দাবী করে খালেদা জিয়া সমাবেশ স্থলে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে জানতে চান, ‘হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? ভোট দিতে পারবেন?’

তখন খালেদা জিয়ার প্রশ্নের জবাবে সমাবেশস্থলে উপস্থিত জনতার সাথে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘না’ সূচক জবাব দেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে, নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিকল্প উপায়ে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান খসরু, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ): সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদল আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপির সমাবেশে যোগ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here