নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রত্যেকেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রাখলেও নিজেদের সুবিদার্থে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, কেউবা জাতীয় পার্টির সাথে সখ্যতা গড়ে রাজনীতি করা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এই নেতারা দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবী কেন্দ্র ঘোষিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচীতেও ছিল অনুপস্থিত।
দুর্নীতির দায়ের কারাভোগ করা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) কেন্দ্র ঘোষিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

কিন্তু দলের দুর্দিনে নেত্রীর জন্যও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু গণস্বাক্ষর অভিযানে মাঠে না নামায় তৃণমূলে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে।

যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের ন্যায় তাদের আর হতে হয়নি বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলার আসামী। বিধায় অদ্যবধি কাউকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আদেশে বহিস্কারও হতে হয়নি।

ফলে ক্ষমতাসীনদের সাথে সখ্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি বেশ দাপুটের সাথে সরকার বিরোধী বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করে যেতে পারছেন তারা।

বিশেষ করে, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আলমসহ নারায়ণগঞ্জের দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের একের পর এক বিতর্কিত আচরনে বিপর্যস্ত হয়ে পরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস এবং বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে সরকারী দলের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সাইনবোর্ড হিসেবে বিএনপিকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ এর আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেন। আর তা পুরোটাই ওপেন সিক্রেট। এ দৃশ্য এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর গা সওয়া হয়ে গেছে। একজন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আওয়ামীলীগের সমাবেশে সরকার দলীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতার কর্মী হিসেবে দাবী করার ঘটনা দেশের ইতিহাসে আর কোথাও দেখা না গেলেও এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসের সৌজন্যে নারায়ণগঞ্জবাসী দু’চোখ ভরে তা উপভোগ করতে পেরেছে! এছাড়াও আজাদ বিএনপিকে যতটা সময় দেন, তার চেয়ে বহুগুণ বেশী ব্যস্ত থাকেন সরকারী দলের তোষামদিতে। ফলে মাঝে মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, তৃণমূলের হাতে তাকে লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায় থেকে কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজাদ বিশ^াসের অশরীরী ক্ষমতায় স্তব্ধ তৃণমূল।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের বিতর্কিত কর্মকান্ডে নানাভাবে বিতর্কিত হচ্ছে মহানগর বিএনপি। বিএনপি’র পদ পদবী ব্যবহার করলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের সঙ্গেই বেশীরভাগ সময় দেখা যায় মুকুলকে।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দেওয়া হলেও সে মঞ্চে বসে তা বেমালুম হজম করে গেছেন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মুকুল। তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাস্যোজ্জল ছবি বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখে মুকুল বিএনপি না আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপি’র তৃণমূলে।

তাছাড়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যখন ডিআইটির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা কেক কাটছিলেন, তখন মুকুল আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছিলেন। পরে রাতে নিজ বাসভবনে বসে এড. আবুল কালামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। যা নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আর সদর-বন্দরের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শূণ্য আসনের উপ নির্বাচনে মুকুল প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। এরপর সম্প্রতি বন্দরে একটি জনসভায় প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের সাথে কাজ করার ঘোষনা দেন। তারপর মুকুলের এই ঘোষনায় আগুন জ¦লে উঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ভিতরে লুকিয়ে থাকা সরকারী দলের গুপ্তচর হিসেবে পরিচিত শওকত হাশেম শকুকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করে বিতর্কের জন্ম দেন সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। শুরু থেকেই বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত কাউন্সিলর শকুর আচরনের কারনে দলে ঐক্য সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবী করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যেখানে মামলা হামলায় দিশেহারা, সেখানে সরকারী দলের সাথে সাথে আঁতাত করে শকু এখন দিব্যি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here