নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বন জঙ্গলে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বণ্যপ্রাণী ‘গিরগিটি’ যেমন ক্ষনে ক্ষনে নিজের গায়ের রূপ পরিবর্তন করে, ঠিক তেমনি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসও রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে ক্ষনে ক্ষনে রূপ বদলাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।
যেই কারনে, এই আজাদ বিশ^াসকে এখন ‘দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন খোদ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আজাদ বিশ^াস এমনই একজন রাজনীতিবিদ, যিনি নিজ স্বার্থে নিজ চরিতার্থ বিকিয়ে দিতে কখনো কার্পণ্য করেন না। যার ফলে কখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কখনো বা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষালম্বন করে খোদ নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারাই একাধিকবার ধাওয়া খাওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিতও হয়েছেন আজাদ বিশ^াস। আর অতীতে খালেদা জিয়াকে তুষ্ট করতে সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অশ্লীল শ্লোগানে হুংকার দিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি শামীম ওসমানের করছেন ভূয়সী প্রশংসা।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের হেভীওয়েট এই সাংসদকে বানিয়ে ফেলেছেন তার নেতা! আর খোদ আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে এমন বক্তব্য দিয়ে আজাদ বিশ^াস অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর বাহ্বা কুঁড়ালেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা।

কারন হিসেবে জানাগেছে, বিগত ২০১৪ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার পর যখন নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ‘দালাল’ খ্যাত এই বিএনপি নেতা আজাদ বিশ^াস নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় শ্লোগান দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমানের চামড়া … দিয়া কামড়া’!

আর তার ঠিক ৩ বছর পর নিজের কুর্দি ঠিক রাখতে একই মঞ্চে উপবিষ্ট সেই শামীম ওসমানের গুণকীত্তর্ণ করে তাকে নিজের নেতা হিসেবে সম্বোধন করলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস।

প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা ব্যায়ে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর লক্ষ্যে গত ১৯ অক্টোবর কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া মাঠে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য কালে আজাদ বিশ^াস বলেন, ‘সংসদ শামীম ওসমান হলেন আমার নেতা। আর তাই আমার নেতার পক্ষেই সরকারের কাছ থেকে এত বড় উন্নয়ণ কাজ আদায় করা সম্ভব হয়েছে। সুতারাং আমি আপনাদের কাছে আমার এই নেতার জন্য প্রানভরে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমার এই নেতা কে সুস্থ্য রাখেন।’

আর আওয়ামীলীগের সমাবেশে সাংসদ শামীম ওসমানের এমন গুণকীর্ত্তণ করে আজাদ বিশ^াস মঞ্চে উপবিষ্ট অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক, বিশেষ অতিথি ঢাকা-৪ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ আবু হোসেন বাবলা, সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি সানজিদা খানমসহ জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের বাহ্ব্ াকুঁড়ালেও বহুরূপী এই আজাদ বিশ^াসকে নিয়ে ফেসবুকে চলে তীব্র সমালোচনা।

অনেকে মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময় পর্যন্ত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের কুর্দি ঠিক রাখতেই ‘গিরগিটি’র মত রূপ পাল্টিয়েছেন আজাদ বিশ^াস। প্রকৃতপক্ষে তার মত বিএনপির নেতারাই আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ নিয়ে দলের মধ্যে ষড়যন্ত্রে বীজ রোপন করে দিচ্ছে। তাই আজাদ বিশ^াসের মত বহুরূপী ‘গিরগিটি’ জাতীয় দালালদের আওয়ামীলীগের সাথে সখ্যতা গড়ার সুযোগ না দিতে সাংসদ শামীম ওসমানসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here