নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের দূর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন ছিলেন নগরীর গলাচিপা এলাকার কথিত বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন। যার একচ্ছত্র আধিপত্যের কারনে নগরীর বৃহত্তর মাসদাইর এলাকাটিকে নগরবাসী নাম দিয়েছিল ‘মিনি টেকনাফ’।
কারণ এখানে ইয়াবা, গাঁজা আর ফেনসিডিলের পাইকারী দরে বিক্রি হতো। শহর ও জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার বেশিরভাগ স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা এখান থেকেই ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল সংগ্রহ করতেন। নগরীর গলাচিপা মোড় থেকে বৃহত্তর মাসদাইর পর্যন্ত বন্দুক শাহীনের মাদক বিক্রির প্রায় ৫ শতাধিক স্পট ছিল।

আর এই বিশাল মাদক সা¤্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে তার ছিল প্রায় দেড়শ’ সেলসম্যান, ১৫ জন মোবাইল ‘অপারেটর’। যাদের প্রধান কাজ মাসদাইর এলাকার সংযোগপথে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রবেশের খবর দেয়া।

যেই কারনে র‌্যাব, ডিবি, পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অনেকবার চেষ্টা করেও বন্দুক শাহীনের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। বন্দুক শাহীনসহ তার পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ডিবি পুলিশের উপর হামলাও চালিয়েছিল। কিন্তু বরাবরই অঁধরা ছিল দূর্ধর্ষ বন্দুক শাহীন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, একসময়ের দুর্দান্ত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে সুখ্যাতি পাওয়া শাহীন ৯০’র দশকের শেষ সময়ে স্থানীয় ক্যাডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পুলিশের কাছে কাটা রাইফেল নিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার নাম হয়ে যায় ‘বন্দুক শাহীন’। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন বিএনপি দলীয় এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের শেল্টারে শাহীন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত করতে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন বৃহত্তর মাসদাইর জুড়ে সাঁটিয়েছিল শাহীন। একপর্যায়ে অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানে শাহীন গ্রেফতার হলেও গিয়াস উদ্দিনের তদবিরে রক্ষা পায়।

এরপর ফিরে এসে এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে সে ও তার ছোট বোনের স্বামী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আসলাম শহরের কলেজ রোড এলাকায় শুরু করে ফেনসিডিলের ব্যবসা। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের মেজ ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার খুনের মামলায় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এবং শাহীন আসামী হয়।

তারপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাহীন পুরোদমে মাদক ব্যবসা শুরু করে এবং নিজের বিশাল মাদক সা¤্রাজ্য গড়ে তোলে। বিগত ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দীতা করারও প্রস্তুতি নেয়।

একাধিক সূত্র জানায়, শাহীনের মাদক ব্যবসায় প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পায় তার আপন দুই ছোট ভাই মামুন ওরফে বাবা মামুন, মাসুম এবং খাজা রনি।

বিগত ২০১৪ সালে ৭ খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন দেশ ত্যাগ করলে পুরো জেলার ইয়াবা ও ফেনসিডিলের একক আধিপত্য চলে আসে বন্দুক শাহীনের কাছে। তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে সে নারায়ণগঞ্জে মাদকের ব্যবসা চালায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here