নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রথম দিনেই প্রমাণ মিলেছে নগরীর সনামধন্য প্রতিষ্ঠান গণবিদ্যা নিকেতনের বিভিন্ন দূর্ণীতি ও অনিয়মের। বিগত দিনগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের যোগসাজসে হয়ে আসা লাগামহীন দূর্ণীতির অভিযোগে তদন্তে নামে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রতিষ্ঠানটিতে তদন্তে যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একটি তদন্ত কমিটি। যার নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: সরোয়ার হোসেন।

তদন্ত কমিটি এদিন প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু বিষয়ে তদন্ত করেন এবং এসকল বিষয়ের প্রমাণাদি সংগ্রহ করেন।

এদিকে তদন্তের শুরুতে উল্লেখিত কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষকদের মাঝে দিবা শাখায় ১০ জন শিক্ষক ও ৬ জন অফিস সহকারী এবং প্রভাতী শাখায় ৪ জন শিক্ষক ও ৩ জন অফিস সহকারীসহ সর্বমোট ১৪ জন শিক্ষক ও ৯ জন অফিস সহকারী নন-এমপিও ভুক্ত হিসেবে কাজ করছে। এসময় নন-এমপিওভুক্ত এসকল শিক্ষক ও অফিস সহকারীরা কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে নিয়োগ পেলো তা আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন এই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটিতে একাউন্টেড ও সহকারী একাউন্টেড হিসেবে নিযুক্ত ২ কর্মচারীও নন-এমপিওভুক্ত। আর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতে হিসাব চাইলে তাৎক্ষণিক ভাবে কোন হিসাব দেখাতে পারেনি ওই একাউন্টেড। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে ডায়েরী কেলেংকারীর বিষয়টি সামনে আনলে বেশ ঘাম ঝরে যায় সদ্য পদত্যাগকারী প্রতিষ্ঠানের ৭ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের।

এসময় তারা টেন্ডার কমিটির আওতাভুক্ত হয়েও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৯’শ টাকার ডায়েরীর টেন্ডারের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে তদন্ত কমিটিকে জানান।

অথচ একাউন্টেডের দাবী, ডায়েরীর টাকা হস্তান্তরের সময় সেদিন একই সাথে ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, নুরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা, জানে আলম ও শরীফ মোল্লা। এসময় তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা ডায়েরী সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র জব্দ করে তা গভীর তদন্তের জন্য নিয়ে যান।

তদন্তের এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য নুরুল ইসলাম দাবী অভিযোগ করেন, ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীকেই বেতন মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার গড়মিল রয়েছে। কে এই কাজগুলো কারলো, কিভাবে করলো আমরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে অনেক সদস্যই জানিনা। এই টাকা গুলো কোথায় গেলো।

অপরদিকে কো-অপ্ট প্রতিনিধি জানে আলম অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন পূর্বে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ৭০ হাজার টাকা ফান্ড থেকে উত্তোলন করেছেন। তিনি কোন খরচের জন্য এই টাকা উত্তোলন করলেন তা যেন তদন্ত করা হয়।

আর, নিজের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মুকুল বলেন, আমি যদি প্রতিষ্ঠানে দূর্ণীতি করতাম, তাহলে দূর্ণীতি ঠেকাতে ২ লাখ টাকা ব্যায়ে কেন প্রশ্ন মেশিন ক্রয় করলাম। সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণের পর পরই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের ৩ লাখ টাকার ঋণ নিজ অর্থায়নে পরিশোধ, স্কুলের বিদ্যুৎ বিভ্রান্তি দূরী করণে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যায়ে জেনারেটর ক্রয়, ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষে ৪৭০ জন শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস প্রদান, ২৫০ জনকে স্কুল ব্যাগ এবং ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে স্কুল সু’স প্রদান, একই বছর ৩১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ প্রদান, প্রায় ১৮’শ জন লোকের উপস্থিতি ধারণ ৩টি অনুষ্ঠানের আয়োজন, প্রতিমাসে প্রতিষ্ঠানের ৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাদ্য খেতে ৫’শ টাকা প্রদান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মিলন মেলায় দেড় লাখ টাকা অনুদান, ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত মেধা তালিকায় ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার, ৩ হাজার ও ২ হাজার করে আর্থিক পুরষ্কার প্রদান, ২০১৬ সালের এসএসসি পরিক্ষায় (এ+) শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরষ্কার প্রদানসহ প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিজ অর্থায়নে শিক্ষার সুযোগ প্রদান কেন করলাম।

এসময় তিনি বলেন, আমি যদি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অডিটের জন্য স্কুল থেকে না সরাতাম, তাহলে ওই দূর্ণীতিবাজ মহলটি সকল অপকর্ম গায়েব করে ফেলতো। যদি আমার বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম হয় তবে অবশ্যই আমার বিচার হবে। এসময় তিনি যারা স্কুলের দূর্ণীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে স্কুল কে দূর্ণীতি মুক্ত করণের জন্য তদন্ত কমিটি প্রধানের প্রতি জোড় দাবী জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here