নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বহু জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গত ২৫ নভেম্বর দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।
যেখানে ৭০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তন্মধ্যে একজন সহ-সভাপতি খাজা রহমত উল্লাহ সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন।

এদিকে, কমিটির তালিকা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দেখাগেছে, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সোমবার দিনভর একই আলোচনা চলে। ৭০ জনের তালিকায় যারা ঠাঁই পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী এবং নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক এর অনুসারী।

কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজ অনুসারীদের তেমন ঠাঁই দিতে পারেন নি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের হেভীওয়েট সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

জানাগেছে, জেলা আওয়ামীলীগে ৭০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন নেতা হচ্ছেন সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারী। এরা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, শিকদার গোলাম রসুল, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডা: জাফর চৌধুরী বীরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ উর রউফ, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, উপ দপ্তর সম্পাদক মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, কার্যকরী সদস্য এড. হোসনে আরা বাবলী এমপি, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, সাইফুল্লাহ বাদল, শওকত আলী, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, মাহফুজুর রহমান কালাম, আব্দুর রশিদ, শাহাদাত হোসেন সাজনু ও এড. ইসহাক।

আর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও নিজ এলাকা রূপগঞ্জ থেকে মাত্র ৩ জনকে জেলা কমিটিতে অন্তুর্ভুক্ত করতে পেরেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। এরা হলেন, কার্যকরী সদস্য আবুল বাশার টুকু, শাহজাহান ভূইয়া ও মেজর (অব.) মশিউর রহমান।

আর বাকী পদধারীরা হচ্ছেন, মেয়র আইভী ও রূপগঞ্জের এমপি গাজী সমর্থক। তন্মধ্যে কয়েকজন আছেন আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলামের অনুসারী।

তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজ অনুগামী নেতাদের কমিটিতে অন্তুর্ভুক্ত করিয়ে গাজী ও আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলেও সংকটে পড়েছেন শামীম ওসমান ও আব্দুল হাই।

কেননা, জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর নিজ অনুগামীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তুর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রে অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, শামীম ওসমান ও আব্দুল হাই বলে দলীয় সূত্রে জানায়ায়। কিন্তু শেষতক জেলা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণ ভার চলে গেছে গাজী ও আইভীর হাতে বলে জেলা কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া একাধিক নেতৃবৃন্দও জানায়।

তবে শামীম ওসমান অনুসারীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সাংসদ শামীম ওসমানের সবচেয়ে বেশী অবদান থাকলেও জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে তার অনুসারী নেতাদের তেমন মূল্যায়ণ করা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here