নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মাসদাইরে নিহত গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যাকান্ডের প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও পলাতক আসামীদের এখনো গ্রেফতার না করায় এবং মামলার তদন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে শুভ্র’র পরিবার। আসামী পক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় শুভ্র’র পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে এই নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান তারা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার অন্যতম আসামী সঞ্জয় দাশ মনার জামিন শুনানীর দিন ধার্য ছিলো সোমবার (১১ আগষ্ট)।

কিন্তু আসামী পক্ষ আদালতে সময় প্রার্থনা করলে জেলা ও দায়রা জজ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বও শুনানীর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
নিহত গার্মেন্টস কর্মকর্তা শুভ্র’র পরিবার দাবী করেছে, শুভ্র হত্যা মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকার পরেও মামলার তদন্তে গড়িমসি করে সময় ক্ষেপণ করেছে পুলিশ। আর তাই মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মামলার প্রধাণ আসামী জীবনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত শুভ্রর মোবাইল ও মানিব্যাগ এখনো আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বলে জানান শুভ্র’র পিতা শাহাদাত হোসেন শিকদার। সিআইডি’র গড়িমসির সুযোগে আসামী পক্ষের লোকজন তার পরিবারকে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে এবং এ কারনে তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান শুভ্র’র পিতা শাহাদাত হোসেন শিকদার।

তিনি আরো বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তবুও মামলা নিতে দেরী করেছে। পোর্ষ্ট মর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে শুভ্রকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া গ্রেফতারকৃত জীবনের কাছ থেকে শুভ্র’র মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনো এই আলামতগুলি আদালতে জমা দেয়া হয়নি। এতেই বোঝা যায় এই মামলায় পুলিশের মতো সিআইডি’ও প্রভাবিত হয়ে গেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) রাতে মাসদাইর নিবাসী শাহাদাত হোসেন শিকদারের বড় ছেলে গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ’র লাশ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। সন্দেহভাজন হিসেবে মাসদাইরের নাজমুল, জীবন ও মনাকে গ্রেফতার করে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর দেওয়া পোষ্ট মর্টেম রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়ার পর নিহতের পিতা শাহাদাত হোসেন শিকদার বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুই তিনজনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here