নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে অত:পর সেই ‘গালি’ ই হজম করে নিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান। আর ক্ষমা না চাওয়ার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে থেকে ‘জয়ী’ হয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানাগেছে, গত ১৭ জুলাই ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়কে মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালার ‘গালিগালাজ’ এর একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

একসাথে আড্ডা দেয়ার সময় কথার প্রেক্ষিতে খোকন সাহা বলেন, ‘শামীম ওসমান বলছে লাফালাফি করো, (…) ভাই আনন্দের আর সীমা নাই।’

এরপর ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়কে উদ্দেশ্য করে মালা বলেন, ‘শামীম ওসমানও জানেনা দেলোয়াররে (কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান) আমি কেমনে জিতাইছি। ঐ হালায় এখন বইয়া বইয়া পাকনামি (…)তাছে। ঐ লম্বা (…) পুতে।’

এরপর খোকন সাহা বলেন, ‘দেলোয়ারে কমছে কম ৩ হাজার ভোটে ফেল করতো।’ তখন মালা বলেন, ‘জিজ্ঞেস কইরেন অয় মালার লেইগ্যা তো জিতছে। আপনে কি মনে করেন আমারে, পলু (নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক) ভাই চিনছে। সেলিম ওসমান কি খাইছে জানেন, (…) বাচ্চায় ছেঁচা খাইছে। এখন আর আগের মত তর্ক করতে পারেনা বন্দর গিয়া। তাইলে এর পরের বারও নয় সেলিম ওসমান যাইবো। আমি দেলোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে যামু। আমার ৩/৪ শ’ পোলাপাইন আছে।’

এরপর খোকন সাহা ও মালা এই অডিওটি তাদের কন্ঠ নকলের অভিযোগ উথাপন পরে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন। পরবর্তীতে এই ‘গালিগালাজের’ জন্য সাংসদ সেলিম ওসমান মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান।

কিন্তু এড. খোকন সাহা ও মাহমুদা মালা কারো কাছে কোন ধরনের ক্ষমা না চাওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করে অনড় অবস্থানে অটল থাকেন।

আর শেষতক গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আসন্ন দূর্গোৎসব উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় সেলিম ওসমান সেই খোকন সাহার সাথেই একটেবিলে বসার পাশাপাশি অনুষ্ঠান শেষে একসাথে চায়ের কাপে চুমুক দেন।

যা দেখে অনকেই মন্তব্য করেন, ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়কে দেয়া ‘গালি’ সেলিম ওসমান সহজেই হজম করে ফেললেও অনড় অবস্থানে থেকে খোকন সাহাই ‘জয়ী’ হলেন। ক্ষমা না চেয়ে উপরন্তু সেলিম ওসমানের সাথে একমঞ্চে বসে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, তিনিই সঠিক ছিলেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here