নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ যখন দলের মধ্যে ঐক্য ফেরানোর চেষ্টায় মত্ত ছিলেন, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জে এসে সেই ঐক্য ভেস্তে দিয়ে গেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতৃবন্দ।
তাদের মতে, যেই গিয়াস উদ্দিন অতীত বিভেদ ভুলে জেলা শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রতি ঐক্যের আহবান জানিয়ে চিঠি দেয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টুসহ বিপক্ষে থাকা আরো শীর্ষ নেতাদের একত্রিত করে দলকে চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছিলেন, সেই মূহুর্তে ঘরকুনো জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলমের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে এক শাহ আলমকে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তকরনের আভাস দিয়ে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে একধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে গিয়েছেন। ফলে ঐক্য গড়ার মূহুর্তে এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা ফের দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ছে।

জানাগেছে, যেই শাহ আলম তার রাজনৈতিক জীবনে আদৌ রাজপথেই নামেন নি, বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের সময় রাজপথের পরিবর্তে এসি রুমে বসে কাটিয়েছেন আয়েশী জীবন, সেই শাহ আলমকেই ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা দেন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার সোবহান মঞ্জিলে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি থানা সম্মানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী শিল্পপতি শাহ আলম আয়োজিত ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তবে শুধু অনুষ্ঠানে যোগ দেয়াই নয়, শাহ আলমের প্রদত্ত বান্ডিলের মানও রাখেন রুহুল কবির রিজভী। মনভরে জয়গান করেন শিল্পপতির।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আলহাজ্ব মো. শাহ আলম দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি দলের প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করছেন। কিছু ব্যবসায়ী আছেন যারা দলের সুসময়ে আসে আর দু:সময়ে চলে যায়। কিন্তু আলহাজ্ব মো. শাহ আলম বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছেন। আমি যখনই জেলে গেছি তিনি আমার সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছেন, আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যোগ্য অভিভাবক আলহাজ্ব মো. শাহ আলম। তিনি অত্যান্ত উদারপন্থী মানুষ, কারণ তার সুপারিশেই গিয়াস উদ্দিন সাহেব বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন।’

রিজভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নানা কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর পাশের এ জেলার প্রতি সবার নজর থাকে। আপনারা দেখেছেন বিগত দিনে কিভাবে ভোট ডাকাতি করে বিএনপিকে হারানো হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শাহ আলম ভোটে এগিয়ে থাকলেও তাকে কৌশলে কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ হারিয়ে দিয়েছে। শাহ আলমের মত শিল্পপতি অনেক নেতা বিগত দিনে ও এখনো বিএনপি থেকে অনেক নিয়েছে। কিন্তু শাহআলম কিছু নেয়নি। বরং বিএনপিকে দিয়েছে। দলের দুঃসময়ে যখন শিল্পপতিরা বিগত দিনের সুবিধা গ্রহণকে অস্বীকার করে দলকে তোয়াক্কা করে না তখন শাহ আলমদের মত নেতারা দলের পাশে আছেন। সে কারণে তিনি অবশ্যই মূল্যায়নের যোগ্য। ওনার মত নেতার এমপি হওয়া দলের স্বার্থে প্রয়োজন।’

এরআগে, সম্প্রতি শাহ আলমের উদ্যোগেই ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে শিল্পপতি শাহ আলমের নাম ঘোষণা করেন। যা নিয়ে তৃণমুলে চরম সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here