নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আবারো জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সভায় বিশৃঙ্খলা করে সকলের বিরাগভাজন হলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাশ। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় তার নামে দাওয়াত পত্র না পাঠানোয় তিনি নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপণ পরিষদের নেতৃবৃন্দকে দায়ী করে বক্তব্য প্রদান করে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন হায়দার রীতিমতো ধমক দিয়ে তাকে থামতে বলেন। যা এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ইতিপূর্বেও বিশৃঙ্খলার কারনে গোপীনাথ দাশকে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়।

আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউসে এ মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের মত বিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়েরর ট্রাষ্টি পরিতোষ সাহা তার বক্তব্যে বলেন, আগে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের সভায় তার নামে দাওয়াত পত্র দেওয়া হতো। কিন্তু এখন আর দেওয়া হয় না।

পরিতোষ সাহার বক্তব্যের উত্তরে সভার সভাপতি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন হায়দার তাকে আশ^স্ত করেন এবং বিষয়টি নোট করে পরবর্তীতে দাওয়াতের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।

এরপর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাশ তার বক্তব্যে বলেন, তিনি বর্তমানে একটি বৃহৎ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময় পূজা উদযাপণ পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাকে আজকের সভায় দাওয়াত দেয়া হয়নি। এর জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদেও নেতৃবৃন্দকে দায়ী কওে বলেন, তার নাম ব্লাক লিষ্টে রাখা হয়েছে এবং পূজা উদযাপণ পরিষদেও নেতারাই এটা করেছেন। এ কথা বলে তিনি চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে সভার সভাপতি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন হায়দার তার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি প্লিজ বসুন, কেন আপনি চিৎকার করছেন (হোয়াই আর ইউ সাউটিং)। এভাবে সাউট করে সভার পরিবেশ নষ্ট করা ঠিক না। সভাপতির কথায় গোপীনাথ দাশ থামেন এবং চুপচাপ বসে পরেন।

গোপীনাথ দাশের এই বিশৃঙ্খল আচরনে বিব্রতকর অবস্থায় পরেন সভায় আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ। সকলে গোপীনাথের এ ধরনের আচরনে নিন্দা প্রকাশ করেন এবং তার মতো এ ধরনের নেতাদের কারনে সমগ্র সনাতন ধর্মের অনুসারীদের বদনাম হয় বলে জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন হিন্দু নেতা জানান, পরিতোষ সাহা এই ঘটনার নাটের গুরু। তার চক্রান্তে আজকে এই বিশৃঙাখলার সৃষ্টি হলো। পরিতাষ সাহার ফাঁদে পা দিয়ে সকলের বিরাগভাজন হলেন গোপীনাথ দাশ। গোপীনাথ কখনো সকলের সাথে মিলে চলতে পারেন না। সব সময় একটা ঝগড়া ফ্যাসাদ সৃষ্টি করেন। এ কারনেই তাকে জেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিএসবি) ফারুক হোসেন , জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল হামিদ, র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম, আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার, রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিক আহমেদ, মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ পূণ্য স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শরোদ কুমার সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমলেশ সাহা , মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, কোষাধ্যক্ষ সুশীল দাস, প্রচার সম্পাদক তপন ঘোপ সাধু, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ বাবু, ফতুল্লা থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রঞ্জিত মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মন্ডল, , সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিশির ঘোষ অমর , বন্দর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন দাস, সোনারগাঁ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লোকনাথ দত্ত, রূপগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গনেশ চন্দ্র পাল, আড়াইহাজার পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরাধন মন্ডল প্রমূখ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here